খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১৭ মে ২০২৫
মুম্বাই, ১৭ মে ২০২৫ – বিখ্যাত গীতিকার ও চিত্রনাট্যকার জাভেদ আখতার সাম্প্রতিক পহেলগাম সন্ত্রাসী হামলার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে কিছু কঠোর মন্তব্য করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছেন। মুম্বাইয়ে একটি বই প্রকাশ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “যদি আমাকে দোজখ আর পাকিস্তানের মধ্যে বেছে নিতে হয়, তবে আমি দোজখই বেছে নেব,” যা তার সীমান্তের উত্তেজনা নিয়ে গভীর হতাশা প্রকাশ করে।
আখতার বলেন, “একদল আমাকে ‘কাফের’ বলে দোজখে পাঠানোর কথা বলে, আর আরেকদল আমাকে ‘জিহাদি’ বলে পাকিস্তানে যাওয়ার পরামর্শ দেয়। যদি এই দুটিই আমার একমাত্র বিকল্প হয়, তবে আমি দোজখই বেছে নেব।” তিনি আরও বলেন, “যদি একদল আমাকে আক্রমণ করা বন্ধ করে, তখন আমি ভাবতে শুরু করব যে হয়তো আমি কোথাও ভুল করছি।”
২২ এপ্রিলের পহেলগাম সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন নিরীহ নাগরিক নিহত হয়, যা পুরো দেশে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। আখতার এই হামলার কড়া সমালোচনা করে ভারত সরকারের কাছে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের আহ্বান জানান। তিনি পাকিস্তানের সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর আশ্রয় ও প্রশ্রয় নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন এবং বলেন, “এমন হামলা কোনও রকম সমর্থন বা আশ্রয় ছাড়া ঘটতে পারে না।”
পহেলগাম হামলার জবাবে ভারত “অপারেশন সিন্দুর” চালু করে, যেখানে পাকিস্তান ও পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে ৯টি সন্ত্রাসী ঘাঁটি লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই অপারেশনকে ভারতের দৃঢ় সংকল্পের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “এই অপারেশন আমাদের নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটি কঠিন বার্তা বহন করে।”
আখতার কাশ্মীরি জনগণের হয়রানিরও সমালোচনা করেন, যা পাকিস্তানের প্রচারণাকে আরও শক্তিশালী করে। তিনি বলেন, “কাশ্মীরিরা ভারতেরই নাগরিক এবং তাদের হয়রানি করা আমাদের ঐক্যকে দুর্বল করে দেয়।”
আখতার বরাবরই সোজাসাপ্টা কথা বলার জন্য পরিচিত, এবং তার এই বক্তব্য ভারতে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে দৃঢ় ও ভারসাম্যপূর্ণ পদক্ষেপের আহ্বান হিসাবে প্রতিফলিত হয়েছে। তিনি বলেন, “আমাদের উচিত সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে একত্র হয়ে দাঁড়ানো, কিন্তু আমাদের নিজেদের জনগণের ওপর চাপ সৃষ্টি করা ঠিক নয়।”