খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬
বাংলাদেশ কোনো নির্দিষ্ট অঙ্গরাজ্যের সঙ্গে নয়, বরং ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গেই যাবতীয় প্রাতিষ্ঠানিক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সোমবার (১১ মে) বিকেলে বাংলাদেশ সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি সরকারের এই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।
এর আগে সচিবালয়ে দেশের লবণচাষিদের সামগ্রিক জীবনমান উন্নয়ন ও এই খাতের সার্বিক পরিস্থিতি মূল্যায়নের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত বৈঠক সমাপ্ত হওয়ার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন এবং সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়ে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত ও অবস্থান তুলে ধরেন।
ব্রিফিংকালে সাংবাদিকরা ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার কর্তৃক সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার সাম্প্রতিক উদ্যোগ বা আলোচনা সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। জবাবে মন্ত্রী বলেন, নিজেদের সীমান্ত সুরক্ষিত করতে কাঁটাতার দেওয়া বা না দেওয়া সম্পূর্ণভাবে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অভ্যন্তরীণ বিষয়। ভারতের অভ্যন্তরীণ কোনো প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের বিষয়ে বাংলাদেশের মন্তব্য করার কিছু নেই। তবে বাংলাদেশের সীমান্ত সুরক্ষার বিষয়ে সরকার পূর্ণ সচেতন রয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দৃঢ়তার সাথে উল্লেখ করেন যে, সীমান্তে যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং দেশের অভ্যন্তরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সার্বক্ষণিক সজাগ ও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি তাদের নিয়মিত টহল ও নজরদারি জোরদার রেখেছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে দেশের লবণ শিল্পের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সরকার দেশে লবণের দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানো এবং এই খাতে পূর্ণ স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্যে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করছে।
লবণ চাষিদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর সরকার বিশেষ জোর দিচ্ছে। মাঠপর্যায়ে যারা কঠোর পরিশ্রম করে লবণ উৎপাদন করছেন, তারা যেন তাদের উৎপাদিত পণ্যের সঠিক ও ন্যায্য মূল্য পান, তা নিশ্চিত করতে সরকারের বিভিন্ন বিভাগ কাজ করছে। লবণ শিল্পের আধুনিকায়ন এবং চাষিদের জীবনমান টেকসই করার বিষয়ে বৈঠকে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয়সমূহ এবং সংশ্লিষ্ট খাতগুলোর বর্তমান লক্ষ্যমাত্রা নিচে টেবিল আকারে উপস্থাপন করা হলো:
| ক্রমিক | খাতের নাম | সরকারের মূল লক্ষ্য ও গৃহীত পরিকল্পনা | সংশ্লিষ্ট বাস্তবায়নকারী কর্তৃপক্ষ |
| ০১ | দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক | ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সাথে প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ রক্ষা ও কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারকরণ। | পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় |
| ০২ | সীমান্ত নিরাপত্তা | সীমান্তে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং বিজিবির সর্বোচ্চ সতর্কতা নিশ্চিতকরণ। | বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) |
| ০৩ | লবণ উৎপাদন শিল্প | দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে লবণের স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন এবং আমদানি নির্ভরতা হ্রাস। | শিল্প মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট অংশীজন |
| ০৪ | লবণচাষিদের কল্যাণ | মাঠপর্যায়ের চাষিদের উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পণ্যের ন্যায্য বাজারমূল্য নিশ্চিতকরণ। | সরকারের নীতি নির্ধারণী মহল ও স্থানীয় প্রশাসন |
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, দেশের অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা অর্জনের পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। একদিকে যেমন দেশের সীমান্ত সুরক্ষায় বিজিবিকে সর্বোচ্চ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী বিশেষ করে লবণচাষিদের অর্থনৈতিক অধিকার সুরক্ষায় প্রধানমন্ত্রী নিজে বিষয়গুলো তদারকি করছেন। সরকার দেশের অভ্যন্তরীণ সম্পদ ও শিল্পের বিকাশের মাধ্যমে সামগ্রিক অর্থনীতিকে গতিশীল করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।