খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
বাংলাদেশে মদ্যপান করার জন্য সরকারের কাছ থেকে লাইসেন্স বা অনুমতিপত্র নেওয়ার বিদ্যমান আইনি বাধ্যবাধকতা নিয়ে ক্ষোভ ও প্রশ্ন তুলেছেন কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল। জাতীয় সংসদে বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি রসাত্মক কিন্তু ক্ষুব্ধ সুরে বলেন, গাড়ি চালানো, মোটরসাইকেল চালানো কিংবা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনার মতো মদ্যপানের ক্ষেত্রেও কেন লাইসেন্স লাগবে, তা তাঁর বোধগম্য নয়।
আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল এই মন্তব্য করেন। দেশের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ও মদ্যপানের লাইসেন্স ব্যবস্থার তীব্র সমালোচনা করে এই আইনপ্রণেতা বলেন, ‘গাড়ি চালাইতে লাইসেন্স লাগে, মোটরসাইকেল চালাইতেও লাইসেন্স লাগে, এমনকি দোকান চালাইতেও লাইসেন্স লাগে। কিন্তু এখন শুনি মদ খাইতেও নাকি লাইসেন্স লাগে। এটা কোন দেশের আইন, আমার জানা নেই।’ তাঁর এই বক্তব্যে সংসদ অধিবেশনে কিছুটা হাসির রোল উঠলেও বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বেশ আলোচনা তৈরি হয়েছে।
প্রস্তাবিত বাজেটে মদের ওপর শুল্ক বা দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, মদের দাম বাড়ানোয় অনেকে মনে কষ্ট পেয়েছেন বা মাইন্ড করেছেন। যাঁরা মদের দাম বাড়ার কারণে মাইন্ড করেছেন, তাঁদের ভোগান্তি কমাতে সহজে লাইসেন্সের ব্যবস্থা করে দেওয়া উচিত। একই সঙ্গে তিনি মদ এবং অন্যান্য মারাত্মক মাদককে এক করে না দেখার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশ অনেক সময় সাধারণ মানুষের কাছে মাত্র এক বোতল মদ পেলেই মাদক মামলা দিয়ে বড় ধরনের হয়রানি করার সুযোগ পায়। এই ধরনের অহেতুক পুলিশি হয়রানি অবিলম্বে বন্ধ হওয়া দরকার বলে তিনি মনে করেন।
বাজেট বক্তৃতায় শুধু মদের লাইসেন্স নয়, দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের এই সংসদ সদস্য। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুরোপুরি সন্তোষজনক নয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং অপরাধ দমনে পুলিশের পেশাগত সক্ষমতা আরও বাড়ানো প্রয়োজন।
শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল মাঠপর্যায়ের পুলিশের সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরে বলেন, দেশের অনেক থানায় রাতে টহল দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত ও সচল যানবাহন নেই। পরিবহনের এই তীব্র সংকটের কারণে পুলিশ সদস্যরা নিয়মিত ও জোরদার টহল কার্যক্রম চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন। এই সংকটের সমাধানকল্পে আগামী বাজেটে পুলিশের জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং আধুনিক সরঞ্জাম নিশ্চিত করার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।