খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৬ মে ২০২৬
বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের প্রধান কোচ ফিল সিমন্স অতীতের সাফল্যকে ছাপিয়ে নতুন করে ইতিহাস গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। ২০২৪ সালে পাকিস্তানের মাটিতে ঐতিহাসিক টেস্ট সিরিজ জয়ের স্মৃতি পেছনে ফেলে বর্তমানে মিরপুরে শুরু হতে যাওয়া আসন্ন সিরিজেই পূর্ণ মনোযোগ দিতে চান তিনি। আজ মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি দলের প্রস্তুতি ও লক্ষ্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
২০২৪ সালে চন্ডিকা হাথুরুসিংহের অধীনে বাংলাদেশ দল পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডিতে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছিল। পাকিস্তানের বিপক্ষে পূর্ববর্তী ১৩টি টেস্টে কোনো জয় না থাকলেও, সেই সফরে বাংলাদেশ টানা দুই ম্যাচে জয়লাভ করে সিরিজ নিজেদের করে নেয়। তবে বর্তমান কোচ ফিল সিমন্স সেই অর্জনকে ‘অতীত’ হিসেবেই দেখছেন। তার মতে, মাঠের লড়াইয়ে নামার আগে পুরনো পরিসংখ্যানের চেয়ে বর্তমানের প্রস্তুতি বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
সিমন্স বলেন, “রাওয়ালপিন্ডিতে যা হয়েছে তা এখন ইতিহাস। সেই ইতিহাস পেছনে ফেলে আমরা নতুন কিছু তৈরি করতে চাই। আমাদের দৃষ্টি এখন শুক্রবারের ম্যাচের দিকে। অতীতে কী ঘটেছে, তা বর্তমান ম্যাচে কোনো প্রভাব ফেলবে না।” তবে তিনি স্বীকার করেছেন যে, পাকিস্তানের মাটিতে সেই জয় দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে এক ধরণের ইতিবাচক মানসিকতা ও আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে, যা ঘরের মাঠে ভালো খেলার ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ প্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।
দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশ দল পুনরায় সাদা পোশাকের ক্রিকেটে মাঠে নামছে। সবশেষ গত বছরের নভেম্বরে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতেছিল টাইগাররা। পাকিস্তানের বিপক্ষে আসন্ন সিরিজকে কেন্দ্র করে ভক্ত ও সমর্থকদের মাঝে প্রত্যাশার পারদ তুঙ্গে থাকলেও সিমন্স বিষয়টিকে দেখছেন ভিন্নভাবে। তিনি মনে করেন, প্রত্যাশার বড় অংশটি ড্রেসিংরুমের বাইরের বিষয়। খেলোয়াড়রা বাইরের আলোচনা বা প্রত্যাশার চাপে প্রভাবিত না হয়ে বরং নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটা খেলার দিকেই মনোযোগী।
সাম্প্রতিক টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স:
| প্রতিপক্ষ | বছর | সিরিজ ফলাফল | উল্লেখযোগ্য অর্জন |
| আয়ারল্যান্ড | ২০২৩/২৪ | ২-০ (জয়) | ঘরের মাঠে দাপুটে জয় |
| পাকিস্তান | ২০২৪ | ২-০ (জয়) | বিদেশের মাটিতে ঐতিহাসিক ক্লিন সুইপ |
| পাকিস্তান | ২০২৬ | আসন্ন | মিরপুরে প্রথম টেস্ট শুরু শুক্রবার |
গত কয়েক মাস ধরে বাংলাদেশ দল মূলত সাদা বলের ক্রিকেটে (ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি) ব্যস্ত ছিল। গত মার্চে পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জয় এবং সম্প্রতি নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সীমিত ওভারের সিরিজ খেলার পর হঠাৎ লাল বলের ক্রিকেটে মানিয়ে নেওয়াটা চ্যালেঞ্জিং কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে সিমন্স ইতিবাচক মনোভাব দেখান।
তিনি জানান, এটি মূলত একটি মানসিক প্রক্রিয়ার বিষয়। দলের অনেক খেলোয়াড় যারা সীমিত ওভারের দলে ছিলেন না, তারা গত কয়েক মাস ধরে লাল বলের ক্রিকেটেই নিয়মিত অনুশীলন করেছেন। ফলে খেলোয়াড়দের জন্য ফরম্যাট পরিবর্তন করে টেস্ট ক্রিকেটে মানিয়ে নেওয়া খুব একটা কঠিন হবে না বলে তিনি আশাবাদী। শুক্রবার মিরপুরে পাকিস্তানের বিপক্ষে শুরু হতে যাওয়া এই সিরিজের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে বাংলাদেশের লাল বলের ক্রিকেটের বর্তমান অবস্থান।—