খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। সম্প্রতি এক গণমাধ্যম সাক্ষাৎকারে তিনি অভিযোগ করেছেন, রাষ্ট্রপতি পদে থাকা অবস্থায় তাঁকে অবহিত না করেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষর করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। রাষ্ট্রপতির কথায়, এটি সাংবিধানিক বাধ্যবাধিতা হলেও অন্তর্বর্তী সরকার তা মানেনি।
রাষ্ট্রপতি বলেন, “না, কোনো কিছুই আমি জানি না। এ রকম রাষ্ট্রীয় একটি চুক্তি আমাকে অবশ্যই জানানো উচিত ছিল। এটি ছোটখাটো হোক বা বড় কিছু হোক, পূর্ববর্তী সরকার প্রধানরা রাষ্ট্রপতিকে জানাতেন। এটি সাংবিধানিক বাধ্যবাধ্যতা। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার তা করেনি।”
রাষ্ট্রপতি সাক্ষাৎকারে আরও জানান যে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তাঁকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত থেকে deliberately আড়াল রাখা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে কোনও সমন্বয় করা হয়নি।
“যে প্রধান উপদেষ্টা নিযুক্ত হয়েছেন, সেই প্রক্রিয়ার সূচনা আমি দিয়েছি। কিন্তু পরে তিনি আমার সঙ্গে একটুও সমন্বয় করেননি এবং একবারের জন্যও আমার কাছে আসেননি,” রাষ্ট্রপতি বলেন।
তাঁর অভিযোগের মধ্যে রয়েছে:
| বিষয় | অভিযোগের বিবরণ |
|---|---|
| বিদেশ সফর | দুইবারের বিদেশ সফর আটকে দেওয়া হয়েছে |
| অনুষ্ঠান অংশগ্রহণ | বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন ও অন্যান্য রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিতে দেওয়া হয়নি |
| হাইকমিশন ছবি | এক রাতের মধ্যে দেশের সব হাইকমিশন থেকে রাষ্ট্রপতির ছবি সরিয়ে ফেলা হয়েছে |
| প্রেস উইং | প্রেস উইং প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং জাতীয় দিবসের ক্রোড়পত্রে রাষ্ট্রপতির ছবি ও বাণী প্রকাশ বন্ধ করা হয়েছে |
রাষ্ট্রপতি আরও উল্লেখ করেন, দেশের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের নিয়মিত রেওয়াজও ভঙ্গ করা হয়েছে। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের সমাবর্তনে রাষ্ট্রপতির উপস্থিতি বাধ্যতামূলক হলেও তা বন্ধ রাখা হয়েছে।
রাষ্ট্রপতির এই অভিযোগ দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, রাষ্ট্রপতির বক্তব্য অন্তর্বর্তী সরকারের আচরণ নিয়ে নানাবিধ প্রশ্ন উত্থাপন করেছে এবং সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন সম্পর্কে জনমনে সন্দেহ তৈরি করেছে।
রাষ্ট্রপতির এই ভাষ্য দেশের প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য ও যোগাযোগ প্রক্রিয়ার গুরুত্বকে পুনর্গঠন করা প্রয়োজনীয়তা পুনর্ব্যক্ত করেছে। এই বিতর্ক ভবিষ্যতে অন্তর্বর্তী সরকারের নীতি এবং রাষ্ট্রপতির ভূমিকা নিয়ে আরও বিস্তারিত আলোচনা উদ্রেক করতে পারে।