খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৬ মে ২০২৬
বর্তমান ফুটবলের অন্যতম সেরা তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং স্প্যানিশ ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদের মধ্যকার সম্পর্কের টানাপোড়েন এখন চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। সাম্প্রতিক সময়ে মাঠের পারফরম্যান্সে ধারাবাহিকতার অভাব এবং মাঠের বাইরে তার জীবনযাপন নিয়ে সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে এমবাপ্পেকে ক্লাব থেকে সরিয়ে দেওয়ার দাবিতে একটি অনলাইন পিটিশনে প্রায় ২০ লক্ষ সমর্থক স্বাক্ষর করেছেন।
রিয়াল মাদ্রিদের জন্য বর্তমান মৌসুমটি বেশ চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে। উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থেকে ছিটকে পড়া এবং ঘরোয়া লিগ লা লিগায় চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার চেয়ে পয়েন্ট তালিকায় অনেকটা পিছিয়ে থাকা ক্লাবটির সমর্থকদের হতাশ করেছে। এই ব্যর্থতার দায়ভারের একটি বড় অংশ এখন এমবাপ্পের ওপর বর্তাচ্ছে।
অসন্তোষের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে একটি ভাইরাল হওয়া ছবি। বর্তমানে পেশির চোটের কারণে মাঠের বাইরে থাকা এমবাপ্পেকে সম্প্রতি একটি অবকাশ যাপন কেন্দ্রে ছুটি কাটাতে দেখা যায়। দলের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এবং নিজের চোট কাটিয়ে ওঠার পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় মনোযোগী না হয়ে আনন্দ-ভ্রমণে লিপ্ত হওয়াকে ইতিবাচকভাবে নেননি মাদ্রিদ ভক্তরা। এই ছবিটিকে ঘিরেই মূলত বিতর্কের সূত্রপাত হয়।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ‘এমবাপ্পে আউট’ শিরোনামে একটি গণস্বাক্ষর অভিযান বা পিটিশন শুরু হয়। যদিও এই পিটিশনের সাথে রিয়াল মাদ্রিদ কর্তৃপক্ষের সরাসরি কোনো প্রাতিষ্ঠানিক সম্পৃক্ততা নেই, তবুও স্বল্প সময়ের মধ্যে ২০ লক্ষাধিক মানুষের অংশগ্রহণ ক্লাবের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
নিচে এমবাপ্পের বর্তমান পরিস্থিতি ও সমর্থকদের দাবির একটি সারসংক্ষেপ দেওয়া হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
| মূল অভিযোগ | চোট থাকাকালীন দলের পাশে না থেকে অবকাশ যাপনে যাওয়া। |
| পিটিশনের নাম | এমবাপ্পে আউট (Mbappé Out) |
| অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা | ২০ লক্ষের বেশি সমর্থক। |
| ক্লাবের বর্তমান অবস্থা | চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থেকে বিদায় ও লা লিগায় পয়েন্ট ব্যবধানে পিছিয়ে থাকা। |
| ভবিষ্যৎ প্রভাব | ক্লাবের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে মানসিক চাপ সৃষ্টি। |
সাধারণত এই ধরনের অনলাইন পিটিশন সরাসরি কোনো পেশাদার ফুটবল ক্লাবের খেলোয়াড় কেনা-বেচার সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আনে না। তবে এটি ক্লাবের ম্যানেজমেন্ট এবং বোর্ড অব ডিরেক্টরসদের কাছে সমর্থকদের মনোভাবের একটি শক্তিশালী বার্তা পৌঁছে দেয়। রিয়াল মাদ্রিদ এখন পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি, তবে খেলোয়াড় এবং সমর্থকদের মধ্যে এই দূরত্ব ঘোচানো এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, রিয়াল মাদ্রিদ সমর্থকদের ধৈর্য অত্যন্ত কম এবং তারা ক্লাবের ঐতিহ্যের প্রতি সর্বোচ্চ নিবেদন প্রত্যাশা করেন। এমবাপ্পের জন্য আগামী দিনগুলো বেশ কঠিন হতে পারে, কারণ তার প্রতিটি পদক্ষেপ এখন কড়া নজরদারিতে রয়েছে। চোট কাটিয়ে মাঠে ফেরার পর যদি তিনি অতি দ্রুত বড় কোনো পরিবর্তন আনতে না পারেন, তবে এই জনরোষ আরও বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
রিয়াল মাদ্রিদের চলতি মৌসুমের ভাগ্য অনেকটা নির্ধারিত হয়ে গেলেও, কিলিয়ান এমবাপ্পের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চয়তার মুখে। ২০ লক্ষ সমর্থকের এই গণস্বাক্ষর কেবল একটি সংখ্যা নয়, বরং এটি সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর গ্যালারিতে ঘনীভূত হওয়া ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। মাঠের বাইরের জীবন এবং মাঠের পারফরম্যান্সের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করতে না পারলে এমবাপ্পের মাদ্রিদ অধ্যায় প্রত্যাশার চেয়ে আগেই সমাপ্ত হতে পারে।