খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬
কমিউনিটি ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) কিমিয়া সাদাত পদত্যাগ করেছেন। তিনি বুধবার ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যানের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেন। তার এই পদত্যাগের ফলে ব্যাংকটির শীর্ষ নির্বাহী পদ—ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদটি—আপাতত শূন্য হয়ে গেল, যা প্রতিষ্ঠানটির পরিচালন কাঠামোয় নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
ব্যাংকিং খাতে দীর্ঘ সময় ধরে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে থাকার কারণে কিমিয়া সাদাতের অবস্থানটি ইতোমধ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ভারপ্রাপ্ত এমডি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, দেশের ব্যাংকিং ইতিহাসে এত দীর্ঘ সময় ধরে কোনো ব্যক্তি ভারপ্রাপ্ত এমডি হিসেবে দায়িত্ব পালন করার ঘটনা বিরল।
পরবর্তীতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক তাকে পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে নিয়োগের অনুমোদন প্রদান করে। নিয়ম অনুযায়ী আগামী ১৪ মে তার আনুষ্ঠানিকভাবে পূর্ণাঙ্গ এমডি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের কথা ছিল। কিন্তু চূড়ান্ত দায়িত্ব গ্রহণের আগেই হঠাৎ করে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন। পদত্যাগপত্রে তিনি ব্যক্তিগত কারণ উল্লেখ করেছেন এবং তিন মাসের নোটিশ সময়ের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
কমিউনিটি ব্যাংক মূলত বাংলাদেশ পুলিশের মালিকানাধীন একটি বাণিজ্যিক ব্যাংক। ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক। ফলে প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষ ব্যবস্থাপনায় সরকারি ও প্রশাসনিক প্রভাব একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
কিমিয়া সাদাত ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে কমিউনিটি ব্যাংকে যোগদান করেন এবং এরপর থেকেই ভারপ্রাপ্ত এমডি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তার নেতৃত্বে ব্যাংকটি বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করলেও পূর্ণাঙ্গ স্থিতিশীল নেতৃত্বের অভাব নিয়ে অভ্যন্তরীণভাবে আলোচনা চলছিল বলে জানা যায়।
তার পদত্যাগের পর এখন ব্যাংকটির সামনে নতুন করে এমডি নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। ব্যাংকিং খাতে শীর্ষ নির্বাহী পদে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এই শূন্যতা দ্রুত পূরণ করা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন।
নিচে কিমিয়া সাদাতের ব্যাংকিং দায়িত্বকাল সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো—
| সময়কাল | পদবী | বিবরণ |
|---|---|---|
| ২০২৫ সালের এপ্রিল | কমিউনিটি ব্যাংকে যোগদান | ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পর্যায়ে অন্তর্ভুক্ত হন |
| পরবর্তী সময় | ভারপ্রাপ্ত এমডি | দীর্ঘ সময় ধরে ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন |
| সম্প্রতি | বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন | পূর্ণাঙ্গ এমডি হিসেবে নিয়োগ অনুমোদিত হয় |
| আগামী ১৪ মে (প্রস্তাবিত) | দায়িত্ব গ্রহণের কথা ছিল | পূর্ণাঙ্গ এমডি হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল |
| বুধবার | পদত্যাগ | ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দেন |
বিশ্লেষকদের মতে, এই পদত্যাগ ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা কাঠামোয় স্বল্পমেয়াদে কিছুটা অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে শীর্ষ নির্বাহী পদ খালি থাকায় নতুন নেতৃত্ব নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় ধীরগতি দেখা দিতে পারে। তবে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ দ্রুত সময়ের মধ্যে নতুন এমডি নিয়োগ দিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।