ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের ষষ্ঠ রাউন্ডে পৃথক দুটি ম্যাচে জয় পেয়েছে আবাহনী লিমিটেড ও মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। ব্যাটিংয়ে জাকের আলী অনিকের সেঞ্চুরি এবং তাওহিদ হৃদয়ের মাত্র ১৭ বলে ফিফটি ম্যাচ দুটিতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।
বুধবার (২০ মে) বিকেএসপির ৩ নম্বর মাঠে প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের বিপক্ষে টস জিতে আগে ব্যাট করতে নামে আবাহনী। নির্ধারিত ৫০ ওভারে তারা ৯ উইকেট হারিয়ে ৩৪১ রানের বড় সংগ্রহ দাঁড় করায়। দলের ইনিংস গঠনে মূল ভূমিকা রাখেন জাকের আলী অনিক, যিনি ১০৩ বলে ১৩৩ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন। তার ইনিংসে ছিল ১০টি চার ও ৯টি ছক্কা।
আবাহনীর হয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান করেন মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন। তিনি ৭৫ রানের কার্যকর ইনিংস খেলেন, যা দলের বড় স্কোর গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। প্রাইম ব্যাংকের বোলাররা বড় স্কোর আটকাতে ব্যর্থ হন এবং নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট হারিয়ে চাপের মধ্যে পড়ে যান।
৩৪২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে প্রাইম ব্যাংক নির্ধারিত ৫০ ওভারের আগেই ৪৫.৩ ওভারে ২৩৫ রানে অলআউট হয়ে যায়। ফলে আবাহনী ১০৫ রানের বড় ব্যবধানে জয় লাভ করে। প্রাইম ব্যাংকের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫১ রান করেন শামীম হোসেন, তবে তার ইনিংস দলকে ম্যাচে ফেরাতে যথেষ্ট ছিল না। এই জয়ে আবাহনী ষষ্ঠ ম্যাচে চতুর্থ জয় নিশ্চিত করে।
অন্যদিকে, একই দিনে মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অগ্রণী ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব ও মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের মধ্যে অনুষ্ঠিত ম্যাচে আধিপত্য বিস্তার করে মোহামেডান। আগে ব্যাট করতে নেমে অগ্রণী ব্যাংক মাত্র ১৩৩ রানে অলআউট হয়ে যায়। মোহামেডানের বোলিং আক্রমণে এই ইনিংস দ্রুত গুটিয়ে যায়।
মোহামেডানের হয়ে বোলিংয়ে সবচেয়ে সফল ছিলেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন এবং মুশফিক হাসান। দুজনেই সমান ৪টি করে উইকেট শিকার করেন, যা প্রতিপক্ষকে বড় স্কোর গড়তে দেয়নি।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে মোহামেডান মাত্র ১ উইকেট হারিয়ে ১১.৩ ওভারে লক্ষ্যে পৌঁছে যায়। দলের ওপেনিং ও টপ অর্ডারের দ্রুত রান তাড়ায় ম্যাচ একতরফা হয়ে যায়। এই ম্যাচে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন তাওহিদ হৃদয়।
তিনি মাত্র ১৭ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন, যা দেশের লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেট ইতিহাসে দ্বিতীয় দ্রুততম অর্ধশতক হিসেবে নথিভুক্ত হয়। এর আগে একই ধরনের দ্রুত ফিফটির রেকর্ড রয়েছে পারভেজ হোসেনের, যিনি গত আসরে আবাহনীর হয়ে শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাবের বিপক্ষে ১৫ বলে ফিফটি করেছিলেন।
হৃদয় শেষ পর্যন্ত ২৪ বলে ৭১ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। তার ইনিংসে ছিল ১০টি চার ও ৪টি ছক্কা, যা মোহামেডানের সহজ জয় নিশ্চিত করে। তার দ্রুতগতির ব্যাটিং দলকে অল্প সময়েই লক্ষ্য পূরণে সহায়তা করে এবং ম্যাচটি একপাক্ষিকভাবে শেষ হয়।
ষষ্ঠ রাউন্ডের এই দুটি ম্যাচে একদিকে জাকের আলীর বড় ইনিংস এবং অন্যদিকে হৃদয়ের বিস্ফোরক ব্যাটিং ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে ব্যাটসম্যানদের আধিপত্যের চিত্র তুলে ধরে, যেখানে বড় স্কোর এবং দ্রুত রান তাড়া উভয়ই ম্যাচের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।