খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১২ মার্চ ২০২৫
রাজধানীর হাবীবুল্লাহ বাহার বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সাবেক উপাধ্যক্ষ মোহাম্মদ সাইফুর রহমান ভুঁইয়া হত্যার নেপথ্যে রুপা নামে আশ্রিতার শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণের চেষ্টার জন্যই খুন হন বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।
বুধবার (১২ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডের ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএমপির উত্তরা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. মহিদুল ইসলাম।
সংবাদ সম্মেলনে মহিদুল ইসলাম বলেন, কলেজটির সাবেক উপাধ্যক্ষ সাইফুর রহমান ভুঁইয়া হত্যার ঘটনায় ফরিদপুর থেকে অভিযুক্ত রুপা (২৩) ও নাজিম (২১) দম্পতিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযুক্ত রুপাকে শ্লীলতাহানির চেষ্টাকালে আত্মরক্ষার জন্য সাইফুর রহমানকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করেন নাজিম। পরে বাথরুমে আটকে রেখে পালিয়ে যান তারা।
পুলিশ জানায়, ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে ঘটনাক্রমে কমলাপুর রেলস্টেশনে সাইফুর রহমানের সঙ্গে পরিচয় হয় ওই দম্পতির। অসহায়ত্বের কারণে ওই দম্পতিকে নিজের বাসায় আশ্রয় দেন সাইফুর রহমান। এরপর থেকেই রুপাকে বিভিন্নভাবে শ্লীলতাহানি করার চেষ্টা করেন তিনি।
স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এসব তথ্য জানান ওই দম্পতি। গ্রেপ্তারের পর এ দম্পতিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
আরো জানায়, নাজিম হোসেন ও রুপা দম্পতিকে চাকরি দেওয়ার কথা বলে বাসায় নিয়ে অসদাচরণ করতেন সাইফুর রহমান। এছাড়া, নাজিমের অনুপস্থিতিতে ওই তরুণীর স্পর্শকাতর জায়গায় হাত দিতেন।
সবশেষে গত ৯ মার্চ রাতে ওই তরুণীকে ধর্ষণচেষ্টা করলে তার স্বামী নাজিম প্রতিবাদ করেন। এ সময় তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে বঁটি দিয়ে সাইফুর রহমানকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রুপা ও তার স্বামী নাজিম পালিয়ে যান।
গত ১০ মার্চ সকালে রাজধানীর রউত্তরার উত্তরখান থানা এলাকার পুরানপাড়ার একটি বাসা থেকে সাইফুর রহমানকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এরপর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হলে রহস্য উদঘাটনে নামে পুলিশ। পরে গতকাল মঙ্গলবার ফরিদপুর রেলস্টেশন এলাকা থেকে ওই দম্পতিকে গ্রেপ্তার করা হয়। নাজিম (২১) ও রুপার (২৩) কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোন, একটি চাবির রিং ও একটি ব্যাংকের ভিসা কার্ড উদ্ধার করা হয়।
খবরওয়ালা/এমবি