খবরওয়ালা স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২১ জুন ২০২৫
গলে পঞ্চম দিনের এক সেশনের নাটকীয়তা বাদ দিলে পুরো ম্যাচেই প্রভাব ছিল বাংলাদেশের। প্রথম ইনিংসে শান্ত-মুশফিকদের ব্যাটে বিশাল সংগ্রহ গড়ার পর বোলাররাও জবাব দেন। তবে ব্যাটিংবান্ধব উইকেট আর লঙ্কান ব্যাটারদের প্রতিরোধে জয় হাতছাড়া হয়। শেষ সেশনে মাত্র ৪ উইকেট তুলতে পারায় জয় নয়, ড্র নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় টাইগারদের। আর সেই ড্র দিয়েই আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের নতুন চক্রে যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশ।
এই টেস্টে নজর কেড়েছেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। প্রথম ইনিংসে ১৪৮ রানের পর দ্বিতীয় ইনিংসে খেলেছেন ১২৫ রানের অপরাজিত ইনিংস। অধিনায়ক হিসেবে দুই ইনিংসে সেঞ্চুরির বিরল কীর্তি গড়েছেন তিনি। টেস্ট ইতিহাসে শান্ত এখন এমন কীর্তি গড়া মাত্র ১৬তম অধিনায়ক।
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে তোলে ৪৯৫ রান। শান্তর সেঞ্চুরির সঙ্গে ১৬৩ রান করেন মুশফিক, লিটন দাস করেন ৯০। জবাবে শ্রীলঙ্কাও ব্যাটিং স্বর্গে নিজেদের সামর্থ্য দেখায়—৪৮৫ রানে থামে তাদের ইনিংস। তবে ব্যাটারদের সঙ্গ দেয়নি কেউই বড় শতকে পৌঁছাতে না পারায় মাত্র ১০ রানের লিড পায় বাংলাদেশ।
দ্বিতীয় ইনিংসে শান্তর নেতৃত্বে বাংলাদেশের ইনিংস এগোয় ধীরে-স্থিরে। মুশফিক ৪৯ রানে রানআউট হলে পরপর উইকেট হারায় দলটি। তবে শান্ত অপর প্রান্তে ছিলেন নির্ভরতার প্রতীক হয়ে। শেষ পর্যন্ত ১২৫ রানে অপরাজিত থেকে ৬ উইকেটে ২৮৫ রানে ইনিংস ঘোষণা করেন তিনি। এতে শ্রীলঙ্কার সামনে দাঁড়ায় ২৯৬ রানের লক্ষ্য।
লঙ্কানরা শুরুতেই খেলতে চেয়েছিল আক্রমণাত্মক ক্রিকেট। তবে সেটা ব্যুমেরাং হয়। ৩২ রানে দুই ওপেনারকে হারায় দলটি—লাহিরু উদারা ৯ ও পাথুম নিশাঙ্কা ২৪ রান করে ফিরে যান। এরপর একপ্রান্তে রান থামলেও অন্যপ্রান্তে উইকেট তোলার সংগ্রামে পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত ৮ ওভারে ৩৪ রান তুলেই শ্রীলঙ্কা প্রথম সেশন পার করে। এরপর আর মাত্র দুটি উইকেট নিতে পারে বাংলাদেশ। ফলে দুই দলই ড্র মেনে নেয়।
গলে এই ম্যাচে জয় বাংলাদেশের হাতছোঁয়া দূরত্বে ছিল। কিন্তু শেষ সেশনে উইকেট তুলতে না পারায় পয়েন্ট ভাগাভাগি করেই টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের নতুন চক্রে যাত্রা শুরু করতে হয়। তবে শান্তর জোড়া সেঞ্চুরি ও ব্যাটারদের ধারাবাহিকতা বাংলাদেশের জন্য বড় আশার বার্তা।
খবরওয়ালা/আরডি