খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২২ নভেম্বর ২০২৫
গুগলের ডিজিটাল বিজ্ঞাপন ব্যবসা ভেঙে দেওয়ার নির্দেশ দিতে এক ফেডারেল বিচারকের কাছে আবেদন করেছে মার্কিন সরকার। সরকারি আইনজীবীরা জানান, ব্যবসায়িক পদ্ধতি পরিবর্তনের বিষয়ে টেক জায়ান্টটির দেওয়া প্রতিশ্রুতি বিশ্বাসযোগ্য নয়।
শুক্রবার (২১ নভেম্বর) মার্কিন সরকার ফেডারেল বিচারকের কাছে এ আবেদন জানায়।
গুগলের অ্যাড টেক স্ট্যাক—যে টুলের মাধ্যমে ওয়েবসাইট প্রকাশকরা বিজ্ঞাপন বিক্রি করেন এবং বিজ্ঞাপনদাতারা বিজ্ঞাপন কেনেন—এ সম্পর্কিত মামলায় সরকারি আইনজীবীরা তাদের চূড়ান্ত যুক্তি উপস্থাপন করেন।
এ বছর গুগলের জন্য এটি দ্বিতীয় বড় অ্যান্টিট্রাস্ট আইনি পরীক্ষা।
এর আগে সেপ্টেম্বর মাসে, ক্যালিফোর্নিয়া-ভিত্তিক টেক জায়ান্টটির বৈশ্বিক সার্চ ইঞ্জিন ব্যবসা ভেঙে দেওয়ার একই ধরনের আবেদন খারিজ করে দেন বিচার বিভাগ (ডিওজে)’র এক বিচারক।
অ্যাপল, অ্যামাজন ও মেটাসহ বড় টেক কোম্পানিগুলোর বাজারে একচেটিয়া আধিপত্য কমাতে মার্কিন সরকারের বিস্তৃত প্রচেষ্টার অংশ এসব মামলা।
এখন পর্যন্ত এসব মামলার ফল মিশ্র। চলতি সপ্তাহে আরেক বিচারক মেটার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে সরকারের মামলা খারিজ করেছেন।
শুক্রবার যুক্তিতর্কের আগে দাখিল করা নথিতে বিচার বিভাগ (ডিওজে) ও কয়েকটি মার্কিন অঙ্গরাজ্য অভিযোগ তোলে যে, গুগল দুইটি আন্তঃসংযুক্ত বিজ্ঞাপন প্রযুক্তির বাজারে বেআইনিভাবে একচেটিয়া ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করেছে।
তাদের দাবি, গুগল এক দশক ধরে বিভিন্ন বেআইনি কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
সরকারের মামলায় বলা হয়, গুগল একই সময়ে বিজ্ঞাপন বাজারের একাধিক ক্ষেত্র নিয়ন্ত্রণ করছে। বিজ্ঞাপন বিক্রির প্ল্যাটফর্ম, লেনদেনের এক্সচেঞ্জ এবং বিপুল সংখ্যক বিজ্ঞাপনদাতার চাহিদা—সবই তাদের নিয়ন্ত্রণে।
ডিওজে জানায়, গুগল একসময় এই ব্যবস্থাকে তুলনা করেছিল গোল্ডম্যান স্যাকসের নিউইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জের মালিক হওয়ার সঙ্গে।
সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল গেইল স্লেটার এক্স-এ পোস্ট করেন, ‘আমরা সমস্যার সমাধানের জন্য এসেছি। আমরা বলব, গুগলের একচেটিয়া আধিপত্য ভেঙে দেওয়া সবচেয়ে কার্যকর সমাধান। এতে নতুন প্রতিযোগী সৃষ্টি হবে।’
গুগল পাল্টা যুক্তি দিয়ে জানায়, প্রস্তাবিত পদক্ষেপ চরম সরকারি হস্তক্ষেপ। এতে প্রকাশক, বিজ্ঞাপনদাতা ও ভোক্তাদের ক্ষতি হবে। কোম্পানির দাবি, তাদের সমন্বিত বিজ্ঞাপন টুল দক্ষতা ও উদ্ভাবন বাড়ায়, আর এসব ভাঙা প্রযুক্তিগতভাবে প্রায় অসম্ভব।
এই বছর মামলার প্রাথমিক রায়ে ফেডারেল বিচারক লিওনি ব্রিঙ্কেমা বলেন, গুগল ইচ্ছাকৃতভাবে প্রকাশক অ্যাড সার্ভার এবং অ্যাড এক্সচেঞ্জ—উভয় বাজারেই একচেটিয়া ক্ষমতা দখল করেছে। এরপরই চূড়ান্ত যুক্তিতর্ক শুরু হয়।
প্রসিকিউটররা এখন বড় ধরনের পদক্ষেপ চাইছেন। এর মধ্যে রয়েছে গুগলের অ্যাডএক্স এক্সচেঞ্জ বিক্রি করতে বাধ্য করা এবং গুরুত্বপূর্ণ নিলাম প্রযুক্তি ওপেন-সোর্স করে দেওয়া।
আমেরিকান ইকোনমিক লিবার্টিজ প্রজেক্টের লরেল কিলগোর বলেন, বিচারক ব্রিঙ্কেমা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে তার সিদ্ধান্ত পরবর্তীতে বাতিল হতে পারে। কারণ, গুগল নিশ্চিতভাবেই আপিল করবে এবং প্রক্রিয়াটি বছরের পর বছর চলবে।
১১ দিনের এ বিচারে ১৯ জন সাক্ষী ও সাতজন বিশেষজ্ঞের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
সার্চ ইঞ্জিন মামলায় বিচারক বলেছিলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উত্থান গুগলের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার কারণ।
তবে অ্যাড টেক মামলায় ডিওজে আইনজীবীরা বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গুগলের আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ করার পরিবর্তে আরও সুসংহত করবে। মামলার চূড়ান্ত রায় আগামী কয়েক মাসের মধ্যে দেওয়া হবে।
সূত্র : রয়টার্স।
খবরওয়ালা/টিএসএন