খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৬
উইন্ডিজের বিপক্ষে আফগানিস্তান ক্রিকেটের জন্য দুটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত একইসাথে এসেছে। গত রোববার অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারানোর পর, সিনিয়র দলের প্রথম টি–টুয়েন্টি ম্যাচেও আফগানিস্তান ৩৮ রানে জয় অর্জন করেছে। এই সিরিজে তিন ম্যাচের প্রথম লড়াইয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে পরাজিত করে আফগান অধিনায়ক রশিদ খান টি–টুয়েন্টিতে ৭০০ উইকেটের পথে আরও দুই ধাপ এগিয়েছেন।
আফগানিস্তান প্রথমে ব্যাট করে ৩ উইকেটে ১৮১ রান সংগ্রহ করে। দলের ব্যাটিংয়ে ইব্রাহিম জাদরান ৮৭ এবং দারউইশ রাসুলি ৮৪ রানের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তাদের তৃতীয় উইকেটে গড়া ১৬২ রানের জুটি আফগানিস্তানের জন্য ম্যাচের ভিত্তি তৈরি করে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের তাড়া ১৪৩ রানে থামে। এই জয়ে আফগান বোলারদের অবদান যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ছিল। রশিদ খান ১৯ রানে ২ উইকেট নেন, মুজিব উর রহমান ২৯ রানে ২ উইকেট নেন এবং পেসার জিয়াউর রহমান ৩ উইকেট নেন। আফগান স্পিনের জাদু ক্যারিবিয়ানদের ব্যাটিং টপ অর্ডারকে আটকাতে যথেষ্ট ছিল।
টি–টুয়েন্টি ক্রিকেটে রশিদ খান সর্বাধিক দ্রুত ৪০০, ৫০০ এবং ৬০০ উইকেট নেওয়ার রেকর্ডধারী। বর্তমানে তিনি ৫০৭ ইনিংসে ৬৯১ উইকেট সংগ্রহ করেছেন এবং ৭০০ উইকেটের লক্ষ্যে মাত্র ৯ উইকেট দূরে। চলতি সিরিজ শেষ না হলেও, এটি টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে সম্ভাব্য রেকর্ডে পরিণত হতে পারে।
নিচের টেবিলে শীর্ষ পাঁচ উইকেটশিকারির বর্তমান অবস্থা দেখা যাচ্ছে:
| অবস্থান | বোলার | ইনিংস | উইকেট | গড় (বোলিং অ্যাভারেজ) | ধরণ |
|---|---|---|---|---|---|
| ১ | রশিদ খান (আফগান) | 507 | 691 | 18.55 | লেগ স্পিনার |
| ২ | ডোয়াইন ব্রাভো (ওয়েস্ট ইন্ডিজ) | 546 | 631 | 23.12 | পেস অলরাউন্ডার |
| ৩ | সুনীল নারাইন (ওয়েস্ট ইন্ডিজ) | 573 | 613 | 21.75 | স্পিনার |
| ৪ | ইমরান তাহির (দক্ষিণ আফ্রিকা) | 430 | 570 | 21.10 | লেগ স্পিনার |
| ৫ | আন্দ্রে রাসেল (ওয়েস্ট ইন্ডিজ) | 521 | 508 | 25.30 | পেস অলরাউন্ডার |
বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে সাকিব আল হাসান ৪৬১ ম্যাচে ৫০৭ উইকেট নিয়ে শীর্ষ দশে এবং মোস্তাফিজুর রহমান ৩১৯ ম্যাচে ৪১০ উইকেট নিয়ে একই তালিকায় স্থান পেয়েছেন।
আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি চেন্নাইয়ে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে আফগানিস্তান তাদের খেলা শুরু করবে। ‘ডি’ গ্রুপের ম্যাচগুলো তারা ভারত ও শ্রীলঙ্কায় খেলবে। সিরিজ জয়ের পর রশিদ বলেন, “দল হিসেবে আমরা ফিট, এবং বিশ্বকাপে ভালো পারফরম্যান্সের আশা করি। সঠিক একাদশ ও সমন্বয়ের মাধ্যমে আমরা ভারতে নিজেদের সেরা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করব।”
রশিদের এই কীর্তি কেবল তার ব্যক্তিগত রেকর্ড নয়, বরং আফগানিস্তানের ক্রিকেটের জন্য এক নতুন আত্মবিশ্বাস ও শক্তির প্রতীক।