খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
হান্সি ফ্লিকের অধীনে বার্সেলোনার আক্রমণভাগ যেন এক অনন্য স্বস্তির নাম। ইউরোপের শীর্ষ ক্লাবগুলোর কোচেরা যেখানে নির্ভরযোগ্য এক বা দুইজন গোলস্কোরারের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য, সেখানে ফ্লিকের দল প্রতিপক্ষ ভেদে আক্রমণের রূপরেখা বদলালেও গোলের ধারাবাহিকতায় ছেদ পড়ে না। কার পায়ে গোল আসবে—এ প্রশ্নে বার্সার ড্রেসিংরুমে কোনো অনিশ্চয়তা নেই; বরং প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই নতুন কারও নাম স্কোরশিটে যুক্ত হচ্ছে।
লা লিগার ২২তম রাউন্ডে এলচের মাঠে ৩–১ গোলে জয়ের মাধ্যমে বার্সেলোনা শীর্ষস্থান আরও দৃঢ় করেছে। এই জয়ে রিয়াল মাদ্রিদের চেয়ে এক পয়েন্টে এগিয়ে লিগ টেবিলের শীর্ষে উঠে আসে কাতালানরা। ম্যাচে গোল করেন লামিনে ইয়ামাল, ফেরমিন লোপেজ ও মার্কাস রাশফোর্ড। বিশেষ করে লোপেজ ও রাশফোর্ডের গোল দুটি বার্সেলোনাকে ইউরোপীয় ফুটবলে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দেয়।
এই মৌসুমে বার্সেলোনার হয়ে ১০ বা তার বেশি গোল করা খেলোয়াড়ের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ছয়জন। ফেরান তোরেস, রাফিনিয়া, লামিনে ইয়ামাল ও রবার্ট লেভানডফস্কির সঙ্গে এবার এই ক্লাবে যুক্ত হলেন ফেরমিন লোপেজ ও মার্কাস রাশফোর্ড। ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের ৯৬টি ক্লাবের মধ্যে একমাত্র বার্সেলোনাই এমন দল, যাদের ছয়জন ফুটবলার চলতি মৌসুমে অন্তত ১০টি করে গোল করেছেন। এই পরিসংখ্যান শুধু ব্যক্তিগত কৃতিত্বের গল্প নয়; বরং এটি দলগত ভারসাম্যপূর্ণ আক্রমণশক্তির প্রতিচ্ছবি।
অন্য ক্লাবগুলোর দিকে তাকালে পার্থক্যটা আরও স্পষ্ট হয়। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ তিনজন খেলোয়াড়ের ১০ বা তার বেশি গোল আছে কেবল বায়ার্ন মিউনিখের। জার্মান জায়ান্টদের ক্ষেত্রে গোলের ভার মূলত একজনের কাঁধেই—হ্যারি কেইন একাই করেছেন ৩৬ গোল। লুইস দিয়াজ ও মাইকেল ওলিসের গোলসংখ্যা যোগ করলেও কেইনের সমান হয় না। অর্থাৎ বায়ার্নের সাফল্য অনেকাংশে একক নায়কনির্ভর, আর বার্সেলোনা দাঁড়িয়ে আছে বহুমুখী আক্রমণের ভিত্তিতে।
বার্সেলোনার গোলবণ্টনেও আছে বৈচিত্র্য। এখন পর্যন্ত কেউ ২০ গোলের গণ্ডি পেরোতে পারেননি। সর্বোচ্চ ১৬ গোল নিয়ে শীর্ষে ফেরান তোরেস। রাফিনিয়া ও লামিনে ইয়ামাল করেছেন ১৩টি করে, রবার্ট লেভানডফস্কির ঝুলিতে ১২টি। এই ছড়িয়ে থাকা গোলবণ্টন প্রতিপক্ষের জন্য কৌশল নির্ধারণকে কঠিন করে তোলে—একজনকে থামালেই কাজ শেষ হয় না, বরং প্রতিটি আক্রমণেই ভিন্ন হুমকি তৈরি হয়।
চলতি মৌসুমে বার্সেলোনার প্রধান গোলদাতারা
| খেলোয়াড় | গোলসংখ্যা |
|---|---|
| ফেরান তোরেস | ১৬ |
| রাফিনিয়া | ১৩ |
| লামিনে ইয়ামাল | ১৩ |
| রবার্ট লেভানডফস্কি | ১২ |
| ফেরমিন লোপেজ | ১০ |
| মার্কাস রাশফোর্ড | ১০ |
এই ‘দলগত গোলউৎসব’ বার্সেলোনাকে কেবল পরিসংখ্যানের শীর্ষে নয়, কৌশলগতভাবেও আলাদা করেছে। হান্সি ফ্লিকের অধীনে দলটি প্রমাণ করছে—আধুনিক ফুটবলে টেকসই সাফল্যের জন্য একক নায়ক নয়, প্রয়োজন সম্মিলিত আক্রমণশক্তি।