খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
ভারত মহাসাগরীয় উপকূলীয় দেশগুলোর জোটের (আইওআরএ) গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে যোগ দিতে যাওয়ার পথে দিল্লি বিমানবন্দরে নজিরবিহীন বাধার মুখে পড়েন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। চলতি মাসের শুরুর দিকে ঘটে যাওয়া এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি নিয়ে দুই দেশের কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। ঘটনার পর ভারতের পক্ষ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হলেও তা ‘সন্তোষজনক নয়’ বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। ঢাকা এই পুরো বিষয়টিকে ‘দুর্ভাগ্যজনক ও দুঃখজনক’ হিসেবে দেখছে।
রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বাসস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এই অসন্তোষের কথা প্রকাশ্যে আনেন। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের সাম্প্রতিক কিছু মন্তব্যের জবাবে তিনি বাংলাদেশের এই কঠোর অবস্থানের কথা জানান।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আইওআরএ-র ওই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানের। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে কূটনৈতিক নিয়মনীতি মেনে এবং প্রচলিত চ্যানেল ব্যবহার করে অনেক আগেই ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে এই সফরের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছিল। তিনি যে একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধিদলের প্রধান হিসেবে ভারত সফর করছেন, সেই তথ্যও দিল্লির জানা ছিল। কিন্তু এত সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পরও দিল্লি বিমানবন্দরে তাঁকে আটকে দেওয়া হয় এবং তাঁর পরবর্তী যাত্রা ব্যাহত করা হয়।
এই প্রসঙ্গে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, “সব ধরনের কূটনৈতিক প্রটোকল মেনে আগেভাগেই ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে সব জানানো হয়েছিল। এরপরও দিল্লি বিমানবন্দরে তাঁর সঙ্গে যে আচরণ করা হয়েছে এবং যেভাবে বাধা দেওয়া হয়েছে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ভারতের দেওয়া ব্যাখ্যায় আমরা সন্তুষ্ট হতে পারিনি।”
এদিকে, এই ঘটনার সমসাময়িক সময়ে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের পরিস্থিতি নিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে কিছু মন্তব্য করা হয়েছিল। সেই প্রসঙ্গেও বাংলাদেশের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন মুখপাত্র। ভারতের সেই মন্তব্যের জবাবে তিনি জানান, বাংলাদেশ দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে বিশ্বের প্রতিটি রাষ্ট্রেরই নিজ নিজ ভূখণ্ডে বসবাসরত সব নাগরিকের, বিশেষ করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সমান দায়িত্ব রয়েছে। এটি কোনো নির্দিষ্ট দেশের একক বিষয় নয়, বরং একটি সার্বজনীন দায়িত্ব।
মুখপাত্র তাঁর বক্তব্যে পুনর্ব্যক্ত করেন যে, বাংলাদেশে অন্তর্বর্তীকালীন বা বর্তমান সরকার দেশের প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা দিতে সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়সহ দেশের সব মানুষের জানমালের সুরক্ষা, মৌলিক অধিকার এবং আইনি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে কাজ করে যাচ্ছে। ফলে অন্য কোনো দেশের এ বিষয়ে অযাচিত মন্তব্য করার অবকাশ নেই।
দিল্লির মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ট্রানজিট পয়েন্টে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার পদমর্যাদার একজন ব্যক্তিকে এভাবে বাধা দেওয়ার ঘটনাটি দুই প্রতিবেশীর কূটনৈতিক সম্পর্কে এক ধরনের অস্বস্তি তৈরি করেছে। ঢাকা আশা করছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে ভারত আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে এবং কূটনৈতিক প্রটোকলের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করবে।