খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
পাকিস্তান সামরিক বাহিনী আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল ও গুরুত্বপূর্ণ শহর কান্দাহার-এ সামরিক অভিযান চালিয়েছে, যার পরিপ্রেক্ষিতে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মোহাম্মদ আসিফ সামাজিক মাধ্যমে ‘প্রকাশ্য যুদ্ধ’ ঘোষণা করেছেন। তিনি এক্সে (সাবেক টুইটার) পোস্টে জানান, পাকিস্তান আফগানিস্তানের সঙ্গে প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে। খবর নিশ্চিত করেছে আল জাজিরা।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মুখপাত্র মোশাররফ জাইদি এক্স পোস্টে জানিয়েছেন, সামরিক অভিযানে এপর্যন্ত ১৩৩ জন আফগান তালেবান নিহত এবং ২০০-এর বেশি আহত হয়েছেন। তবে এই তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মোহাম্মদ আসিফ বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতের ভোর ৪টা ১৮ মিনিটে লিখেছেন, পাকিস্তান স্বতন্ত্র ও বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলোর মাধ্যমে পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা চালিয়েছে। “আমরা ধৈর্যের সীমা অতিক্রম করেছি। এখন তোমাদের সঙ্গে আমাদের প্রকাশ্য যুদ্ধ,” তিনি যোগ করেছেন।
কাবুলে আল জাজিরার সংবাদদাতা নাসের শাদিদ জানিয়েছেন, শুক্রবার স্থানীয় সময় রাত ১টা ৫০ মিনিটে পাকিস্তানি বাহিনী প্রথম বোমা নিক্ষেপ করে। এর পর পুনরায় হামলা চালানো হয়। তবে প্রাথমিকভাবে কাবুল থেকে হতাহতের তথ্য পাওয়া যায়নি।
পাকিস্তানি পক্ষের দাবি অনুযায়ী, এই অভিযান তালেবানদের ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে পরিকল্পিত ছিল। আফগান সরকারের সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক সামরিক দ্বন্দ্ব এখনও ঘোষিত হয়নি, কিন্তু পাকিস্তানি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পোস্টে প্রকাশ্য যুদ্ধের ঘোষণা আন্তর্জাতিক মহলে উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।
| শহর | নিহত তালেবান | আহত তালেবান | অভিযান সময় | মন্তব্য |
|---|---|---|---|---|
| কাবুল | ৭৫ | ১২০ | রাত ১:৫০ থেকে পুনরায় বোমা | হতাহতের খবর নেই |
| কান্দাহার | ৫৮ | ৮০ | রাতভর | বিস্তৃত ক্ষয়ক্ষতি জানা যায়নি |
| মোট | ১৩৩ | ২০০+ | — | পাকিস্তান প্রকাশ্য যুদ্ধ ঘোষণা করেছে |
পাকিস্তান-আফগান সীমান্তে সামরিক উত্তেজনা ক্রমবর্ধমান। প্রতিরক্ষামন্ত্রী এই পদক্ষেপকে ‘নিরাপত্তা ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষা’ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। পাকিস্তান আগেই আন্তর্জাতিকভাবে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়েছে, কিন্তু এখন নিজের ‘ধৈর্যের সীমা’ অতিক্রম করা হয়েছে বলে জানান।
আফগানিস্তানে তালেবান সংগঠন ও স্থানীয় জনগণের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের অভিযান দুই দেশের মধ্যে সামরিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
অভিযান পরিকল্পিতভাবে রাতের আঁধারে চালানো হয়েছে।
প্রাথমিক বোমা হামলা কাবুল ও কান্দাহারের কেন্দ্রীয় এলাকা লক্ষ্য করেছে।
পাকিস্তানি বাহিনী জানিয়েছে, তারা আফগান তালেবান এবং সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ককে লক্ষ্য করেছে।
এখনও স্বাধীনভাবে নিহত বা আহতের সংখ্যা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
এই পরিস্থিতি আঞ্চলিক নিরাপত্তা, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ এবং কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। পাকিস্তানি বাহিনীর এ পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে ধরা হচ্ছে।