খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬
পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) সদ্য সমাপ্ত আসরে পেশোয়ার জালমির শিরোপা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে দেশে ফিরেছেন তরুণ তুর্কি নাহিদ রানা। গতির ঝড় আর নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে নজর কাড়া এই ডান-হাতি পেসার ব্যক্তিগত সাফল্যের চেয়ে দলের প্রয়োজনকে প্রাধান্য দিচ্ছেন। বড় ফরম্যাটের ক্রিকেটে মনোনিবেশ করার লক্ষ্যে তিনি এখন থেকেই নিজের বোলিং প্রক্রিয়ায় কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর।
লাহোরে অনুষ্ঠিত টুর্নামেন্টের মেগা ফাইনালে হায়দরাবাদ কিংসের বিপক্ষে বল হাতে আগুন ঝরিয়েছেন নাহিদ রানা। নির্ধারিত ৪ ওভার বোলিং করে মাত্র ২২ রান খরচায় তিনি শিকার করেন ২ উইকেট। তার স্পেলের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক ছিল ১৫টি ডট বল, যা প্রতিপক্ষ ব্যাটারদের ওপর প্রবল চাপ সৃষ্টি করে। বিশেষ করে গ্লেন ম্যাক্সওয়েলকে শূন্য রানে সাজঘরে ফিরিয়ে তিনি হায়দরাবাদের ব্যাটিং মেরুদণ্ড ভেঙে দেন। তার এমন কৃপণ বোলিংয়ের সুবাদে হায়দরাবাদ কিংস ১২৯ রানেই থমকে যায়। জবাবে ২৮ বল হাতে রেখেই ৫ উইকেটের জয় নিশ্চিত করে পেশোয়ার জালমি।
পুরো টুর্নামেন্টেই নাহিদ রানা ছিলেন ধারাবাহিক। মাত্র ৫টি ম্যাচ খেলার সুযোগ পেলেও তিনি উইকেট শিকারি বোলারদের তালিকায় নিজের ছাপ রেখে গেছেন। পাওয়ার প্লে এবং ডেথ ওভার—উভয় ক্ষেত্রেই তার ইকোনমি রেট ছিল ঈর্ষণীয়।
টেবিল: পিএসএল আসরে নাহিদ রানার পারফরম্যান্স চিত্র
| বিভাগ | পরিসংখ্যান |
| মোট ম্যাচ | ৫টি |
| মোট উইকেট | ৯টি |
| ইকোনমি রেট | ৫.৪৪ |
| সেরা বোলিং (ফাইনাল) | ৪-০-২২-২ |
| ফাইনালে ডট বল | ১৫টি |
সোমবার পাকিস্তান থেকে দেশে ফেরার পর বিমানবন্দরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন এই উদীয়মান তারকা। নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে খুব একটা উচ্ছ্বসিত না হয়ে তিনি বলেন, “ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে বড় বিষয় হলো দল আমার কাছে যা চেয়েছিল, আমি তা পূরণ করতে পেরেছি। এটাই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।” পাকিস্তানে খেলার অভিজ্ঞতা সম্পর্কে তিনি জানান, সেখানকার কন্ডিশন ও পরিবেশ তিনি যথেষ্ট উপভোগ করেছেন এবং এটি তার আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধিতে সহায়তা করেছে।
টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে সাফল্য পেলেও নাহিদ রানার বর্তমান লক্ষ্য ঘরের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে আসন্ন টেস্ট সিরিজ। সাদা বলের ক্রিকেটের উত্তাপ গায়ে না মেখে তিনি নিজেকে দীর্ঘ ফরম্যাটের জন্য প্রস্তুত করছেন। তার মতে, টি-টোয়েন্টি এবং টেস্ট ক্রিকেটের ব্যাকরণ সম্পূর্ণ আলাদা।
নাহিদ রানা উল্লেখ করেন, “টেস্ট আর টি-টোয়েন্টি এক নয়। আমি আমার নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মধ্যেই থাকতে চাই এবং সেখানেই মনোযোগ দিচ্ছি।” সাধারণত একজন পেসারের জন্য ফরম্যাট পরিবর্তন করা চ্যালেঞ্জিং হলেও নাহিদ তার লাইন, লেংথ এবং গতির ওপর কাজ করে যাচ্ছেন যাতে টেস্ট ক্রিকেটে দীর্ঘ সময় বল করার সক্ষমতা বজায় থাকে। জাতীয় নির্বাচক প্যানেলও এই তরুণ পেসারকে নিয়ে বড় পরিকল্পনা করছে, কারণ তার সাম্প্রতিক ফর্ম এবং পাকিস্তানি কন্ডিশনে খেলার অভিজ্ঞতা আসন্ন সিরিজে বাংলাদেশের পেস আক্রমণকে শক্তিশালী করবে।
সংযত জীবনযাপন এবং কঠোর অনুশীলনের মাধ্যমে নাহিদ রানা নিজেকে একজন পূর্ণাঙ্গ অল-ফরম্যাট বোলার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার মিশনে রয়েছেন। পাকিস্তান সিরিজের আগে তার এই মানসিক স্থিরতা এবং প্রক্রিয়া-নির্ভরতা দলের জন্য ইতিবাচক ইঙ্গিত বহন করছে।