ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার কানড়া এলাকায় ভোররাতে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় দুইজন নিহত এবং তিনজন আহত হয়েছেন। বুধবার (১ এপ্রিল) ভোরে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনা আবারও মহাসড়কে অনিয়মিত চলাচল ও নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি সামনে নিয়ে এসেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে পাঁচজন যাত্রী মতলবের বেলতলী এলাকার একটি মাজারে ওরস অনুষ্ঠান শেষে নিজ নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন। ভোরের দিকে যখন তারা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কানড়া এলাকায় পৌঁছান, তখন অটোরিকশাটি উল্টো পথে রাস্তা পার হওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় দ্রুতগতির একটি অজ্ঞাত যানবাহন এসে অটোরিকশাটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষটি এতটাই তীব্র ছিল যে ঘটনাস্থলেই দুইজনের মৃত্যু হয় এবং বাকি তিনজন গুরুতর আহত হন।
নিহতরা হলেন—সরকারপুর গ্রামের মৃত লতু মিয়ার ছেলে বারেক (৪২) এবং নুর ইসলামের ছেলে মোস্তফা (৪০)। তারা দুজনই পেশায় অটোরিকশাচালক ছিলেন। আহতদের মধ্যে রয়েছেন নবীর হোসেন (৩৮), কাওসার (৪০), ইসমাইল (৩৭) এবং সাগর মিয়া (৩৫)। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
দাউদকান্দি হাইওয়ে পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, মহাসড়কে উল্টো পথে চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং এটি প্রায়ই মারাত্মক দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, অটোরিকশাটি হঠাৎ করেই বিপরীত দিক থেকে রাস্তা পার হওয়ার চেষ্টা করেছিল, যার ফলে দ্রুতগতির গাড়িটির সঙ্গে সংঘর্ষ এড়ানো সম্ভব হয়নি। দুর্ঘটনায় জড়িত অজ্ঞাত যানবাহনটি পালিয়ে গেছে, তবে সেটিকে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
নিহতদের স্বজনরা জানান, ধর্মীয় অনুষ্ঠান শেষে নিরাপদে বাড়ি ফেরার আশায় তারা অটোরিকশাটি ভাড়া করেছিলেন। কিন্তু পথিমধ্যেই ঘটে যায় এই মর্মান্তিক ঘটনা, যা তাদের পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এনেছে।
নিচে দুর্ঘটনার সারসংক্ষেপ তুলে ধরা হলো—
| বিষয় |
তথ্য |
| দুর্ঘটনার স্থান |
কানড়া, দাউদকান্দি, কুমিল্লা |
| সড়ক |
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক |
| সময় |
ভোররাত, ১ এপ্রিল |
| নিহত |
২ জন |
| আহত |
৩ জন |
| দুর্ঘটনার কারণ |
উল্টো পথে চলাচল ও দ্রুতগতির গাড়ির ধাক্কা |
| যানবাহন |
সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও অজ্ঞাত গাড়ি |
এই দুর্ঘটনা আবারও প্রমাণ করে যে মহাসড়কে ট্রাফিক আইন অমান্য করা কতটা প্রাণঘাতী হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, উল্টো পথে চলাচল বন্ধ করা এবং সচেতনতা বাড়ানো ছাড়া এ ধরনের দুর্ঘটনা কমানো সম্ভব নয়। পাশাপাশি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কঠোর নজরদারি এবং চালকদের প্রশিক্ষণ বাড়ানোও জরুরি বলে মত দিয়েছেন তারা।