খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৪ মে ২০২৬
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বর্তমান সভাপতি তামিম ইকবাল মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের অবকাঠামোগত উন্নয়নে এক বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। এই পরিকল্পনার আওতায় বাংলাদেশের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলা সকল প্রাক্তন ক্রিকেটারের জন্য স্টেডিয়ামে লর্ডসের আদলে একটি বিশেষ ব্যালকনি ও লাউঞ্জ নির্মাণ করা হবে। মূলত জাতীয় দলের প্রাক্তন খেলোয়াড়দের সম্মাননা প্রদান এবং তাদের জন্য স্টেডিয়ামে একটি নির্দিষ্ট স্থায়ী মিলনমেলা তৈরি করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিসিবির দায়িত্ব গ্রহণের পর তামিম ইকবাল প্রাথমিক পদক্ষেপে সাবেক অধিনায়কদের জন্য বিশেষ ‘ক্যাপ্টেনস কার্ড’ প্রবর্তন করেছিলেন। এই কার্ডের মাধ্যমে সাবেক অধিনায়কদের জন্য বিশেষ সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হয়। তবে শুধুমাত্র অধিনায়কদের এই সুবিধা প্রদানের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে সাবেক পেসার তাপস বৈশ্যসহ অনেকেই সমালোচনা করেছিলেন। সেই সমালোচনার প্রেক্ষিতে এবং সকল স্তরের জাতীয় খেলোয়াড়দের অবদানকে স্বীকৃতি দিতে বিসিবি এখন সকল সাবেক ক্রিকেটারের জন্য সুযোগ-সুবিধার পরিধি বাড়াচ্ছে।
বিসিবি সভাপতি জানিয়েছেন যে, এখন থেকে শুধু অধিনায়ক নন, বরং বাংলাদেশের হয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রতিনিধিত্ব করা সকল ক্রিকেটারই এই বিশেষ গ্যালারি ও লাউঞ্জ ব্যবহারের অধিকার লাভ করবেন। এটি তাদের জন্য একটি নির্দিষ্ট স্থান হিসেবে কাজ করবে যেখানে তারা বসে সরাসরি খেলা উপভোগ করতে পারবেন।
মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের বিদ্যমান স্থাপনার কিছু অংশ সংস্কার ও পরিবর্তনের মাধ্যমে এই নতুন ব্যালকনি ও লাউঞ্জ নির্মাণ করা হবে। এই প্রকল্পের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্যসমূহ নিচে একটি টেবিলের মাধ্যমে তুলে ধরা হলো:
| বৈশিষ্ট্যের ক্ষেত্র | বিস্তারিত বিবরণ |
| অনুপ্রেরণা | লন্ডনের ঐতিহাসিক লর্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ডের বিখ্যাত ব্যালকনি। |
| অবস্থান | মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম। |
| ব্যপ্তি ও পরিসর | লর্ডসে ব্যালকনির জায়গা সীমিত হলেও মিরপুরে এটি তুলনামূলক বড় পরিসরে নির্মিত হবে। |
| সুযোগ-সুবিধা | বিশেষ লাউঞ্জ, বসার গ্যালারি, কফি শপ এবং আড্ডার জন্য সুপরিসর স্থান। |
| নির্মাণ সময়কাল | পুরাতন স্থাপনা ভেঙে নতুন নকশায় কাজ শেষ হতে আনুমানিক ৩ থেকে ৪ মাস সময় লাগবে। |
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল এই প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা এবং উদ্দেশ্য সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করেন। তিনি জানান যে, বাংলাদেশের হয়ে যারা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেছেন, তারা এমন একটি সম্মান পাওয়ার দাবিদার। তার মতে, এই উদ্যোগটি অনেক আগেই গ্রহণ করা উচিত ছিল, তবে বর্তমানে এটি শুরু করতে পারায় তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
সভাপতির বক্তব্য অনুযায়ী, এই বিশেষ লাউঞ্জের উদ্দেশ্য শুধুমাত্র খেলা দেখা নয়। খেলা চলাকালীন সময়ে সাবেক ক্রিকেটাররা এখানে বসে দলকে সমর্থন দেবেন। পাশাপাশি যখন কোনো আন্তর্জাতিক বা ঘরোয়া খেলা থাকবে না, তখনও তারা এই স্থানে এসে নিজেদের মধ্যে গল্প-আড্ডা দিতে পারবেন, কফি পান করতে পারবেন এবং ব্যালকনিতে বসে মাঠের দৃশ্য উপভোগ করতে পারবেন। এটি মূলত সাবেক ক্রিকেটারদের পারস্পরিক সম্পর্ক বজায় রাখার একটি কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে।
বিসিবি সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের কাজ দ্রুততম সময়ে শুরু করার জন্য প্রয়োজনীয় নকশা চূড়ান্ত করা হয়েছে। পুরাতন নির্দিষ্ট কিছু কাঠামো ভেঙে নতুন আদলে তৈরি করা হবে এই বিশেষ জোন। সম্পূর্ণ নির্মাণ কাজ শেষ করতে অন্তত তিন থেকে চার মাস সময়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার পর প্রাক্তন ক্রিকেটারদের জন্য প্রবেশের নীতিমালা এবং পরিচয়পত্র ব্যবহারের মাধ্যমে এই লাউঞ্জটির ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা হবে।
বিসিবির এই উদ্যোগকে দেশের ক্রিকেট সংস্কৃতিতে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রাক্তন খেলোয়াড়দের ক্রিকেট মাঠের সাথে যুক্ত রাখা এবং তাদের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের পরিবেশ তৈরি করতে এই বিশেষ স্থাপনাটি দীর্ঘমেয়াদী ভূমিকা রাখবে। বিসিবি মনে করে, এই ধরনের সম্মাননা বর্তমান প্রজন্মের ক্রিকেটারদের মধ্যেও দেশের হয়ে অবদান রাখার ক্ষেত্রে বাড়তি অনুপ্রেরণা যোগাবে। জাতীয় দলের প্রাক্তন ক্রিকেটারদের সম্মাননা এবং অবকাঠামোগত এই সংযোজন মিরপুর স্টেডিয়ামের আভিজাত্য আরও বৃদ্ধি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।