খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৮ মার্চ ২০২৫
২৩ দিন ধরে বন্ধ রয়েছে পেশাজীবী সংগঠন অর্থনীতি সমিতির কার্যালয়, পাশাপাশি সংগঠনটির কার্যক্রমও বন্ধ রয়েছে। জানা গেছে নেতৃত্ব নিয়ে চলছে চরম বিশৃঙ্খলা । একটি পক্ষ নিজেদের অন্তর্বর্তী বা অ্যাডহক কমিটি দাবি করে গত ১২ ফেব্রুয়ারি সংগঠনের কার্যালয় দখলে নিয়ে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে। ফলে সমিতির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহর নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী কমিটির সদস্যরা কার্যালয়ে যেতে পারছেন না। এভাবে ২৩ দিন ধরে সমিতির কার্যালয় ও কার্যক্রম দুটিই বন্ধ রয়েছে।
পাঁচ দশকের যাত্রায় অর্থনীতি সমিতি কখনোই নেতৃত্ব নিয়ে এমন টানাপোড়েনের মধ্যে পড়েনি। সমিতির একাধিক সদস্য প্রথম আলোকে বলেন, নেতৃত্ব নিয়ে পাল্টাপাল্টি কমিটি গঠন এবং কার্যালয়ে হামলা ও দখলের ঘটনায় অর্থনীতি সমিতির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। অবশ্য কেউ কেউ বলছেন, গত দেড় দশকে সমিতি আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ একটি গোষ্ঠীর কাছে জিম্মি ছিল। প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনের মাধ্যমে তারা নেতা নির্বাচন করেছে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির অভাব ছিল। সে জন্য রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটেছে।
এদিকে অর্থনীতি সমিতির অন্তর্বর্তী কমিটির আহ্বায়ক মাহবুব উল্লাহ বলেন, ‘তারা (নতুন অ্যাডহক কমিটি) যা করেছে, তা কোনো সভ্য মানুষ করতে পারে না। আমরা প্রশাসনকে অবহিত করেছি। আশা করছি অচিরেই অচলাবস্থার নিরসন হবে।’ অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা এক বছরের মধ্যে নির্বাচন দিয়ে দায়িত্ব হস্তান্তর করতে চাই।’
১৯৭৪ সালে গঠিত অর্থনীতি সমিতির সদস্যসংখ্যা বর্তমানে প্রায় চার হাজার। সারা দেশের অর্থনীতির ছাত্র, শিক্ষক, ব্যাংকার ও অর্থনীতিবিদেরা এই সমিতির সদস্য। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে দেশের প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদেরা এ সমিতির নেতৃত্ব দিয়েছেন। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ১৯৭২-৭৪ মেয়াদে অর্থনীতি সমিতির সহসভাপতি ছিলেন।
খবরওয়ালা/এমএজেড