খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬
রাজধানীর সদরঘাট এলাকায় বুধবার (১৮ মার্চ) বিকেল ৫:৩০টার দিকে দুই লঞ্চের সংঘর্ষে প্রাণহানি ঘটেছে। এ ঘটনায় দুজন নিহত হয়েছেন এবং আরও দুজন পানিতে ডুবে নিখোঁজ রয়েছেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও ফায়ার সার্ভিস উদ্ধার অভিযানে তৎপর রয়েছেন।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুটি লঞ্চ একে অপরের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষের পর মুহূর্তের মধ্যে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পানিতে পড়ে যায়। এতে লঞ্চের যাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে ওঠেন এবং মুহূর্তের মধ্যে পানিতে ছিটকে পড়েন। নিহত ও নিখোঁজদের মধ্যে বয়সসীমা ৩০ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ফায়ার সার্ভিস ও নদী রক্ষাকারী বাহিনী দুর্ঘটনার পরে দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে। উদ্ধার অভিযানের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা মো. শহীদুল ইসলাম জানিয়েছেন, “আমরা নিখোঁজদের খুঁজে বের করতে সব ধরনের যন্ত্রপাতি ব্যবহার করছি। আশঙ্কা করা হচ্ছে, আরও দুজন লঞ্চযাত্রী পানিতে আটকা পড়েছেন।”
এ ঘটনার পরে সদরঘাট এলাকায় পরিবহন ও যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ জানায়, সংঘর্ষের কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, লঞ্চ দুটি নিয়ন্ত্রণহীন গতিতে চলছিল।
নিচের টেবিলে দুর্ঘটনার সংক্ষিপ্ত তথ্য তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| ঘটনা তারিখ ও সময় | ১৮ মার্চ, বিকেল ৫:৩০ |
| ঘটনা স্থান | সদরঘাট, ঢাকা |
| নিহত | ২ জন |
| নিখোঁজ | ২ জন |
| উদ্ধার অভিযান | ফায়ার সার্ভিস ও নদী রক্ষাকারী বাহিনী |
| সম্ভাব্য কারণ | নিয়ন্ত্রণহীন লঞ্চ, সংঘর্ষ |
উদ্ধারকারীরা জানিয়েছেন, যাত্রীদের মধ্যে কয়েকজনকে সামান্য আঘাতের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া, সদরঘাট এলাকায় অন্যান্য লঞ্চ চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে, যাতে উদ্ধারকাজ নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করা যায়।
নিহতদের পরিবারকে সরকারের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। এছাড়া নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে, যারা দুর্ঘটনার কারণ এবং দায়িত্ব নির্ধারণ করবে।
সদরঘাটে এই ধরনের লঞ্চ দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণহীন নৌপরিবহন ও যাত্রী নিরাপত্তা বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অনেক লঞ্চ অতিরিক্ত যাত্রী বহন করায় এমন দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বাড়ছে।
এ ঘটনায় নগরবাসী এবং যাত্রীরা সতর্ক হয়েছেন এবং কর্তৃপক্ষকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোর করার আহ্বান জানিয়েছেন।
এই দুর্ঘটনার ঘটনা নতুন করে মনে করিয়ে দেয়, শহরের ব্যস্ত নৌপথে নিরাপত্তা ও তদারকি কতটা জরুরি।