খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৬ মে ২০২৬
বাংলাদেশ জাতীয় টেস্ট দলের অভিজ্ঞ ব্যাটার মুমিনুল হককে নিয়ে আসন্ন সিরিজগুলোতে এক নতুন কৌশলগত পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে চন্ডিকা হাথুরুসিংহের শিষ্যরা। সাধারণত দলের ব্যাটিংয়ের প্রধান স্তম্ভ হিসেবে পরিচিত হলেও, এবার তাঁকে পুরোদস্তুর একজন কার্যকর স্পিন বোলার হিসেবে প্রস্তুত করা হচ্ছে। বিসিবির কোচ সোহেল ইসলামের অধীনে ইনডোর নেটে মুমিনুলের বোলিং নিয়ে চলছে নিবিড় কাজ। মূলত অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর পরিকল্পনা অনুযায়ী, দলের প্রয়োজনে বিকল্প স্পিনার হিসেবে মুমিনুলকে আরও বেশি কার্যকর করে তোলাই এই বিশেষ প্রশিক্ষণের মূল লক্ষ্য।
দীর্ঘ সময় টেস্ট ক্রিকেটে ফিল্ডিং করার পর নিয়মিত স্পিনাররা যখন ক্লান্ত হয়ে পড়েন, তখন বোলিং আক্রমণে বৈচিত্র্য আনতে একজন অনিয়মিত বা পার্ট-টাইম বোলারের প্রয়োজন হয়। কোচ সোহেল ইসলামের মতে, মুমিনুল যদি নিয়মিত পাঁচ থেকে ছয় ওভার মানসম্মত বোলিং করতে পারেন, তবে তা মূল বোলারদের বিশ্রাম দেওয়ার পাশাপাশি প্রতিপক্ষের জুটিও ভেঙে দিতে সক্ষম হবে। অনুশীলনের অভাব থাকলে লাল বলে হঠাৎ বোলিং করা ব্যাটারদের জন্য সহজ হয়ে যায়, তাই মুমিনুলকে ছন্দে রাখতে প্রতিদিন নেটে বল করানো হচ্ছে।
মুমিনুল হক তাঁর ৭৫টি টেস্টের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি মাঝেমধ্যে বল হাতেও সাফল্যের পরিচয় দিয়েছেন। বিশেষ করে কিউইদের বিপক্ষে বাংলাদেশের স্মরণীয় জয়গুলোতে তাঁর বাঁহাতি স্পিন ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিচে তাঁর বোলিং পরিসংখ্যানের একটি সংক্ষিপ্ত রূপ তুলে ধরা হলো:
| নির্দিষ্ট ক্ষেত্র | পরিসংখ্যানগত তথ্য |
| টেস্ট ম্যাচ সংখ্যা | ৭৫টি |
| বোলিং ইনিংস | ৫১টি |
| মোট বোলিং করা ওভার | ১৬২.১ ওভার |
| মোট অর্জিত উইকেট | ১১টি |
| সেরা বোলিং পারফরম্যান্স | ৩/৪ (নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে, ২০২৩) |
| মাউন্ট মঙ্গানুই টেস্ট সাফল্য | ২ উইকেট (৪.১ ওভার) |
কোচ সোহেল ইসলাম মনে করেন, মুমিনুলের বোলিংয়ে স্বাভাবিকভাবেই উইকেট পাওয়ার সক্ষমতা রয়েছে। তিনি আক্ষেপ করে জানান, যদি ক্যারিয়ারের শুরু থেকে মুমিনুল বোলিংয়ে নিয়মিত হতেন, তবে আজ তাঁর ঝুলিতে ৫০ থেকে ৬০টি উইকেট থাকার সম্ভাবনা ছিল। বর্তমানে দেড় মাসব্যাপী অনুশীলনের মাধ্যমে মুমিনুলের বোলিংয়ের ধরন ও ধার অনেকটাই উন্নত হয়েছে।
নিজের এই নতুন দায়িত্ব প্রসঙ্গে মুমিনুল হক বলেন, দলের প্রয়োজনে তিনি যেকোনো ভূমিকা পালন করতে প্রস্তুত। তাঁর মতে, স্পিনাররা দীর্ঘ সময় বোলিং করে ক্লান্ত হয়ে পড়লে অধিনায়ককে ব্রেক দেওয়ার জন্য হলেও কয়েক ওভার করা প্রয়োজন। তিনি স্বীকার করেন যে, নিয়মিত বোলিং অনুশীলন তাঁর নিজের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর পাশাপাশি দলের ভারসাম্য রক্ষায় সাহায্য করবে। আগে নিজের বোলিং পরিসংখ্যানের হিসাব না রাখলেও, এখন থেকে তিনি বল হাতে নিয়মিত হওয়ার এবং উইকেটের সংখ্যা বাড়ানোর ব্যাপারে সচেতন হয়েছেন।
জাতীয় দলের স্পিন কোচ মুস্তাক আহমেদও নেটে মুমিনুলের বোলিং দেখে ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করেছেন। তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজদের সাথে মুমিনুলের এই নিয়মিত বোলিং অনুশীলন দলের স্পিন বিভাগকে আরও শক্তিশালী করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাকিস্তানের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে স্পিন সহায়ক কন্ডিশনে মুমিনুল হকের এই বাড়তি বোলিং দক্ষতা বাংলাদেশের জন্য একটি তুরুপের তাস হয়ে উঠতে পারে। ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বোলিংয়েও সমান একাগ্রতা বজায় রেখে মুমিনুল এখন নিজেকে একজন কার্যকর অলরাউন্ডার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছেন।