খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৫
সাপের কামড়ে প্রতি বছর গড়ে ৬-৭ হাজার মানুষ মারা যায়। সাপ সাধারণত তখনই মানুষকে কামড়ায় যখন মানুষটি তার জন্য বিপজ্জনক মনে হয়। কিন্তু মরা সাপও কয়েক ঘণ্টা পর কামড়াতে পারে, এমন ঘটনাও সম্প্রতি ভারতের বিভিন্ন এলাকায় ঘটেছে।
উত্তর-পূর্ব ভারতের আসামে ২০২২ ও ২০২৩ সালে তিনটি অদ্ভুত ঘটনা ঘটেছিল। তিনটি ক্ষেত্রেই মরা সাপ কয়েক ঘণ্টা পরে মানুষকে কামড় দিয়েছিল। মোনোকল্ড কোবরা এবং ব্ল্যাক ক্রেট প্রজাতির সাপও ছিল। এই দুই প্রজাতিই ভারতে সবচেয়ে বেশি বিষাক্ত বলে বিবেচিত।
গবেষণায় দেখা গেছে, সাপ মৃত্যুর তিন ঘণ্টা পরও কামড় দিতে পারে। মৃত সাপের শরীরে থাকা বিষ প্রণালী অক্ষত থাকে এবং এটি মানুষের শরীরে প্রবেশ করলে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।
প্রথম ঘটনা শিবসাগর জেলায় ঘটেছে, যেখানে ৪৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তি তার মুরগির খামারে একটি কোবরা মেরেছিলেন। কাটা মাথা তার হাতে কামড় দেয়, এরপর পুরো শরীরে বিষ ছড়িয়ে পড়ে। তিনি হাসপাতালে চিকিৎসার পর সুস্থ হন।
দ্বিতীয় ঘটনাটিও একই এলাকায়, একজন কৃষকের ট্র্যাক্টরের নিচে পিষ্ট হওয়া কোবরা কয়েক ঘণ্টা পর তার পায়ে কামড় দেয়। আক্রান্ত জায়গা ফুলে যায়, বমি শুরু হয়। তাকে অ্যান্টি-ভেনম ও অ্যান্টিবডি দিতে হয়। ২৫ দিনের চিকিৎসার পর সুস্থ হন।
তৃতীয় ঘটনা বোকো থেকে, যেখানে কালো ক্রেট প্রজাতির সাপ মৃত্যুর তিন ঘণ্টা পরও একজন ব্যক্তিকে কামড়ায়। প্রথমে গুরুতর কিছু হয়নি, কিন্তু রাতের দিকে নিউরো-টক্সিনের প্রভাবে শরীরে অসাড়তা ও যন্ত্রণা দেখা দেয়। ১৬ দিনের চিকিৎসার পর তিনি সুস্থ হন।
গবেষকরা জানিয়েছেন, ফ্রন্ট-ফ্যাঙ্গড প্রজাতির সাপের বিষদাঁতের মাধ্যমে বিষ মানুষের শরীরে প্রবেশ করে। মৃত সাপের শরীরে যদি কোনো আঘাত লাগে, বিষদাঁতের মাধ্যমে বিষ বেরিয়ে যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, রাসেল ভাইপার, শ স্কেল্ড ভাইপার, ব্যাম্বু-পিট ভাইপার, মালাবার পিট ভাইপার, কো ral স্নেক, ব্যান্ডেড পিট ভাইপার, কন্ডা কন্ডাই এবং নীরকোলি প্রজাতির সাপের ক্ষেত্রে এই বিপদ বেশি।
সবচেয়ে ভালো উপায় হলো সাবধান থাকা। ডা. এনএস মনোজ বলেন, মৃত সাপকে স্পর্শ করার চেষ্টা করা বিপজ্জনক। সাপের বিষ ব্যবহারের ওপর কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকে না। তাই সাপের সঙ্গে পরিচিতদের জানান, তারা যথাযথ ব্যবস্থা নেবেন।
খবরওয়ালা/টিএসএন