খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
রক অ্যান্ড রোল হল অব ফেম ২০২৬ সালের অন্তর্ভুক্ত শিল্পীদের তালিকা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেছে, যেখানে বিভিন্ন ঘরানার আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সংগীতশিল্পী ও ব্যান্ডকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। আগামী ১৪ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের পিকক থিয়েটারে এই অন্তর্ভুক্তি অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। পরবর্তীতে অনুষ্ঠানটি ডিসেম্বর মাসে এবিসি টেলিভিশনে সম্প্রচার করা হবে এবং ডিজনি প্লাসে অনলাইনে দেখা যাবে।
এই বছরের প্রধান শিল্পী বিভাগে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন ফিল কলিন্স, আয়রন মেইডেন, বিলি আইডল, জয় ডিভিশন ও নিউ অর্ডার, ওয়েসিস, উ-ট্যাং ক্ল্যান, স্যাডে এবং প্রয়াত লুথার ভ্যান্ড্রস।
আয়রন মেইডেন, যাদেরকে হেভি মেটাল সংগীতের অন্যতম দীর্ঘস্থায়ী ও প্রভাবশালী ব্যান্ড হিসেবে ধরা হয়, ১৯৮০ সালে যাত্রা শুরু করে এবং চার দশকেরও বেশি সময় ধরে বিশ্বজুড়ে সংগীত পরিবেশন করে আসছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে তারা এই সম্মাননা পেল। ব্যান্ডের ব্যবস্থাপক রড স্মলউড দলের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে ভক্তদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এই স্বীকৃতি আনন্দের হলেও ব্যান্ডের মূল শক্তি সবসময়ই তাদের শ্রোতাদের সঙ্গে সম্পর্ক।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এটি ব্যান্ডের পঞ্চাশতম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের সময় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি স্বীকৃতি, কারণ একই সময়ে তারা বিশ্বভ্রমণ কনসার্ট আয়োজন করছে।
অন্যদিকে, ফিল কলিন্স দ্বিতীয়বারের মতো এই সম্মান পাচ্ছেন। এর আগে তিনি জেনেসিস ব্যান্ডের সদস্য হিসেবে ২০১০ সালে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিলেন। একক ক্যারিয়ারে তিনি “ইন দ্য এয়ার টুনাইট”, “অ্যাগেইনস্ট অল অডস” এবং “টেক মি হোম”-এর মতো বহু জনপ্রিয় গান উপহার দিয়েছেন।
বিলি আইডল, যিনি প্রথমে পাঙ্ক ব্যান্ড জেনারেশন এক্স-এর মাধ্যমে পরিচিতি পান এবং পরে একক শিল্পী হিসেবে “হোয়াইট ওয়েডিং” ও “আইজ উইদাউট আ ফেস”-এর মতো হিট গান উপহার দেন, তিনিও এই তালিকায় রয়েছেন।
ম্যানচেস্টারের জয় ডিভিশন ও নিউ অর্ডার, যাদের “লাভ উইল টিয়ার আস অ্যাপার্ট” এবং “ব্লু মানডে”-এর মতো গান সংগীত ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে, এই তালিকায় স্থান পেয়েছে। একই সঙ্গে ব্রিটিশ ব্যান্ড ওয়েসিস, যাদের “হোয়াটস দ্য স্টোরি মর্নিং গ্লোরি” অ্যালবাম বিশ্বব্যাপী বিপুল বিক্রি অর্জন করেছে, তারাও অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।
আরএন্ডবি গোষ্ঠী স্যাডে তাদের মসৃণ সংগীতধারা ও “স্মুথ অপারেটর”-এর মতো গানের জন্য পরিচিত, আর হিপহপ দল উ-ট্যাং ক্ল্যান তাদের ১৯৯৩ সালের প্রথম অ্যালবামের মাধ্যমে ঘরানাটিকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করেছিল। প্রয়াত লুথার ভ্যান্ড্রস, যিনি ২০০৫ সালে মৃত্যুবরণ করেন, মরণোত্তরভাবে এই সম্মাননা পাচ্ছেন।
| শিল্পী বা দল | ঘরানা | বিশেষ পরিচিতি |
|---|---|---|
| ফিল কলিন্স | পপ ও রক | একক ও ব্যান্ড উভয় ক্যারিয়ারে সফল |
| আয়রন মেইডেন | হেভি মেটাল | বিশ্বখ্যাত দীর্ঘস্থায়ী ব্যান্ড |
| বিলি আইডল | রক ও পাঙ্ক | একক ক্যারিয়ারে একাধিক হিট গান |
| জয় ডিভিশন ও নিউ অর্ডার | পোস্ট পাঙ্ক | সংগীতধারায় বিপ্লবী প্রভাব |
| ওয়েসিস | ব্রিটপপ | বিশ্বজুড়ে বাণিজ্যিক সাফল্য |
| উ-ট্যাং ক্ল্যান | হিপহপ | আধুনিক হিপহপের পথপ্রদর্শক |
| স্যাডে | আরএন্ডবি | মসৃণ ও আবেগপূর্ণ সংগীতশৈলী |
| লুথার ভ্যান্ড্রস | সোল | মৃত্যুর পর সম্মাননা প্রাপ্ত শিল্পী |
এই ঘোষণার মাধ্যমে সংগীত ইতিহাসের বিভিন্ন ঘরানার শিল্পীদের একত্রে সম্মান জানানো হলো, যা বিশ্ব সংগীত সংস্কৃতিতে তাদের দীর্ঘস্থায়ী অবদানকে আরও একবার স্বীকৃতি প্রদান করল।