খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬
বাংলাদেশে জাপানি অটোমোবাইল জায়ান্ট টয়োটার ব্যবসায়িক কার্যক্রমে প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় টয়োটা বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ (এমডি) তিন শীর্ষ কর্মকর্তা আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ ২০২৬) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে আসামিরা আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন জানালে আদালত তা মঞ্জুর করেন।
আদালত ও মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, জামিনপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা হলেন:
১. প্রেমিত সিং: টয়োটা বাংলাদেশের এমডি এবং মালয়েশীয় নাগরিক।
২. আকিও ওগাওয়া: টয়োটা টুশো এশিয়া প্যাসিফিকের ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং জাপানি নাগরিক।
৩. আসিফ রহমান: টয়োটা টুশো করপোরেশনের জেনারেল ম্যানেজার।
শুনানি শেষে আদালত প্রত্যেকের ১ হাজার টাকা মুচলেকায় জামিন মঞ্জুর করেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী আশুতোষ ভৌমিক এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে গত ৮ ফেব্রুয়ারি পিবিআইয়ের (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন) তদন্ত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে আদালত আসামিদের হাজির হতে সমন জারি করেছিলেন।
বাংলাদেশে টয়োটা ব্র্যান্ডের একক পরিবেশক হিসেবে দীর্ঘকাল ধরে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে নাভানা লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসায়িক স্বার্থ ক্ষুণ্ন করার অভিযোগে ২০২৫ সালের ৯ জুলাই নাভানা লিমিটেডের পক্ষে শফিউল ইসলাম বাদী হয়ে এই মামলাটি দায়ের করেন। মামলার মূল অভিযোগগুলো এবং পিবিআইয়ের তদন্তে উঠে আসা তথ্যগুলো নিচে ছক আকারে তুলে ধরা হলো:
| অভিযোগের বিষয় | পিবিআই তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য ও বিবরণ |
| ব্যবসায়িক প্রতারণা | নাভানা লিমিটেডের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা ও পক্ষপাতদুষ্ট বাজার প্রতিবেদন তৈরি করা। |
| উৎপাদন বিলম্ব | গ্রাহকদের অর্ডার করা যানবাহনের উৎপাদন প্রক্রিয়া ইচ্ছাকৃতভাবে দীর্ঘায়িত করা। |
| নথি সরবরাহে অসহযোগিতা | কাস্টমস ক্লিয়ারেন্সের জন্য বাধ্যতামূলক ‘ম্যানুফ্যাকচারার ইনভয়েস’ বা উৎপাদনকারী ইনভয়েস সরবরাহ না করা। |
| আর্থিক ও ভাবমূর্তি ক্ষয় | আমদানি প্রক্রিয়া ব্যাহত করে নাভানাকে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে ফেলা এবং সুনাম নষ্ট করা। |
| আইনি জটিলতা | ইনভয়েস না পাওয়ায় নাভানা লিমিটেডকে কাস্টমস জরিমানা ও আইনি ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেওয়া। |
গত ৮ ডিসেম্বর পিবিআইয়ের পরিদর্শক ও তদন্ত কর্মকর্তা সৈয়দ সাজেদুর রহমান আদালতে তাঁর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, অভিযুক্ত কর্মকর্তারা টয়োটা টুশো করপোরেশনের সাথে নাভানা লিমিটেডের বিদ্যমান সুসম্পর্ক ও ব্যবসায়িক সক্ষমতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে নানা কৌশলের আশ্রয় নিয়েছিলেন। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, কর্মকর্তাদের এই ধরনের অসহযোগিতামূলক ও প্রতারণামূলক আচরণ কেবল একটি করপোরেট প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি করেনি, বরং বাংলাদেশের অটোমোবাইল বাজারের স্থিতিশীলতাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
নাভানা লিমিটেডের দাবি অনুযায়ী, টয়োটার ডিস্ট্রিবিউটরশিপ বা পরিবেশক সত্তা ছিনিয়ে নেওয়ার একটি অসাধু উদ্দেশ্য থেকে এই কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছিল। বর্তমান আইনি প্রক্রিয়ায় জামিন পেলেও আসামিদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর বিষয়ে বিচারিক কার্যক্রম চলমান থাকবে।
জামিন লাভের পর আসামিদের নিয়মিত হাজিরা এবং মামলার শুনানিতে অংশগ্রহণের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এই মামলার পরবর্তী কার্যক্রম মূলত পিবিআই দাখিলকৃত অভিযোগপত্রের ওপর ভিত্তি করে সাক্ষ্যগ্রহণের মাধ্যমে এগোবে। করপোরেট মহলে আলোচিত এই মামলার রায় বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক অংশীদারিত্বের সুরক্ষা ও নৈতিকতার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হতে পারে।