খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
দেশের শীর্ষ চারটি মোবাইল ফোন অপারেটরের কাছে সরকারের সাড়ে ১৩ হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি রাজস্ব বকেয়া পড়ে রয়েছে। সুনির্দিষ্টভাবে বলতে গেলে, এই বকেয়া পাওনার মোট পরিমাণ ১৩ হাজার ১৪৪ কোটি টাকা। বকেয়া তালিকায় যেমন রয়েছে বেসরকারি অপারেটরগুলো, তেমনই বড় অঙ্কের টাকা বাকি রেখে তালিকায় শীর্ষস্থানে জায়গা করে নিয়েছে সরকারি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান টেলিটকও।
জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে আজ বুধবার এই তথ্য সরকারিভাবে প্রকাশ করা হয়েছে। কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমানের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এই পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বটি টেবিলে উপস্থাপিত হয়।
সংসদে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, অপারেটরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি টাকা বকেয়া রয়েছে গ্রামীণফোনের কাছে। তাদের কাছে সরকারের পাওনার পরিমাণ ৬ হাজার ১০১ কোটি ৮২ লাখ টাকা। মূলত ইনফরমেশন সিস্টেম অডিট আপত্তির কারণে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) গ্রামীণফোনের কাছে মোট ৮ হাজার ৪৯৪ কোটি ১ লাখ টাকা দাবি করেছিল। পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে গ্রামীণফোন দুই কিস্তিতে ২ হাজার ৩৯২ কোটি ১৯ লাখ টাকা পরিশোধ করে। বাকি টাকা নিয়ে বর্তমানে উচ্চ আদালতে মামলা চলছে।
বকেয়ার দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা সরকারি প্রতিষ্ঠান টেলিটকের কাছে সরকারের পাওনা ৫ হাজার ৯৫৪ কোটি টাকা। এই বিশাল অঙ্কের বকেয়ার মধ্যে থ্রিজি ও ফোরজি লাইসেন্স ফি, রেভিনিউ শেয়ারিং, স্পেকট্রাম (তরঙ্গ) ফি, বিটিআরসির প্রশাসনিক জরিমানা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিলের (এসওএফ) অর্থ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে টেলিটক এই বকেয়ার মধ্য থেকে ৫ হাজার ৫৫৪ কোটি টাকা সরকারি মূলধন বা ইকুইটি কনভার্সনের (শেয়ারে রূপান্তর) জন্য আবেদন করেছে। এই প্রস্তাবটি বর্তমানে অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিবেচনাধীন রয়েছে।
বেসরকারি অপারেটর রবি আজিয়াটার কাছে অডিট আপত্তি এবং পরিশোধিত রেভিনিউ শেয়ারিংয়ের ওপর ভ্যাট বা মূসক বাবদ বিটিআরসির মোট দাবি ছিল ৬৭৮ কোটি টাকা। আদালতের নির্দেশনা মেনে রবি ইতিমধ্যে পাঁচ কিস্তিতে ১৮৮ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে। ফলে বর্তমানে তাদের বকেয়া দাঁড়িয়েছে ৬১৫ কোটি টাকায়, যা আদায়ের জন্য উচ্চ আদালতে আইনি প্রক্রিয়া চলমান।
অন্যদিকে, আরেক অপারেটর বাংলালিংক ডিজিটাল কমিউনিকেশনসের কাছে একই খাতে বিটিআরসির দাবি ছিল ৪৭৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে বাংলালিংক ইতিমধ্যে ৩৮১ কোটি টাকা পরিশোধ করে দিয়েছে। বাকি বকেয়া অর্থের বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য আদালতে মামলা চলছে। তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানান, আইনি প্রক্রিয়া ও সরকারি বিধিমালা মেনে এই বিশাল পরিমাণ রাজস্ব আদায়ের জন্য সরকার ও বিটিআরসি তৎপর রয়েছে।