খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৫ আগস্ট ২০২৫
বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার আশেকপুর ইউনিয়নের সাবরুল বড় হিন্দুপাড়া গ্রামের মাদক বিক্রেতা হরিদাস চন্দ্র দেবনাথের অত্যাচারে পুরো গ্রাম অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। তার বাবা ও ছেলের বিরুদ্ধেও এলাকার নারী ও মেয়েদের যৌন হয়রানির অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি দুর্গাপূজা মণ্ডপে মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় হরিদাস ও তার সহযোগীরা ৪ জনকে মারধর করে আহত করেছে।
শনিবার (২৩ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে এই হামলার ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে অরবিন্দু সাহা, তার ভাই, তার স্ত্রী এবং ভাইয়ের স্ত্রী রয়েছেন। অরবিন্দু সাহা জানান, তিনি পূজামণ্ডপে মাদক সেবন নিষিদ্ধ করায় হরিদাস বহিরাগত সন্ত্রাসী নিয়ে তাদের ওপর হামলা করে। এই ঘটনায় তিনি রাতেই থানায় হরিদাস চন্দ্র দেবনাথ, তার ছেলে হীরা চন্দ্র দেবনাথসহ মোট তিনজনের বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি করেছেন। রবিবার (২৪ আগস্ট) শাজাহানপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
গ্রামের বেশ কয়েকটি হিন্দু পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হরিদাসের ছেলে হীরা চন্দ্র দেবনাথের যৌন হয়রানির ভয়ে অনেক অভিভাবক তাদের মেয়েকে বিদ্যালয়ে পাঠাতে পারছেন না। গ্রামের অনেক নারী অভিযোগ করেছেন যে হরিদাসের বাবা সুরেশ চন্দ্র দেবনাথের কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তাদের ওপর নির্যাতন চালানো হচ্ছে।
গ্রামের বাসিন্দা অষ্ট চন্দ্র সাহা বলেন, হরিদাসের মুদি দোকানটি মূলত মাদক বিক্রয় কেন্দ্র এবং সেখানে গভীর রাত পর্যন্ত মাদকসেবীদের আনাগোনা থাকে। আরেক বাসিন্দা রমেন্দ্র চন্দ্র সাহা জানান, হরিদাসের ছেলে হীরার ভয়ে তার মেয়ে স্কুলে যেতে পারছে না। তিনি আরও বলেন, হরিদাসের লোকজন বহিরাগতদের নিয়ে প্রতি রাতে জুয়ার আসর বসায়, যা গ্রামের পরিবেশ নষ্ট করছে।
আশেকপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য আব্দুল হালিম বলেন, হরিদাস, তার ছেলে হীরা এবং তাদের সহযোগীরা মাদক, জুয়াসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত। তিনি প্রশাসনের কাছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
ঘটনার পর থেকে হরিদাস চন্দ্র দেবনাথ ও তার ছেলে হীরা চন্দ্র দেবনাথ পলাতক রয়েছেন। হরিদাস মুঠোফোনে জানান, মারামারির ঘটনাটি জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে ঘটেছে। তিনি মাদক বিক্রি করেন না, তবে গাঁজা সেবন করেন এবং কবিরাজির জন্য গাঁজা ব্যবহার করেন। ছেলের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না বলে দাবি করেন।
শাজাহানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, পূজামণ্ডপে মাদক সেবন না করার বিষয়ে অরবিন্দু সাহা কথা বলেছিলেন, যা জানার পর হরিদাস তার ওপর হামলা করে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং আঘাত গুরুতর নয়।
খবরওয়ালা/টিএসএন