খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় জমি সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে এক চাচাতো ভাইয়ের ঘুষিতে আরেক চাচাতো ভাইয়ের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। বুধবার রাতে উপজেলার মাদবরচর ইউনিয়নের সাড়ে এগাররশি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের মধ্যে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহত ব্যক্তি আলতাফ মাদবর (৪৫)। তিনি ওই গ্রামের ইসলাম মাদবরের ছেলে। অভিযুক্ত বারেক মাদবর একই গ্রামের মোসলেম মাদবরের ছেলে এবং আলতাফের আপন চাচাতো ভাই। ঘটনার পর থেকে বারেক মাদবর পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্র, পরিবার ও পুলিশ জানায়, জায়গা-জমিসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলতাফ মাদবর ও বারেক মাদবরের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। সম্প্রতি সেই বিরোধ আরও তীব্র আকার ধারণ করে। বুধবার রাতে উভয়ের মধ্যে এ নিয়ে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং তর্ক-বিতর্কের মধ্যে বারেক মাদবর আলতাফ মাদবরের বুকে জোরে ঘুষি মারেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘুষি খাওয়ার পরপরই আলতাফ মাদবর মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। উপস্থিত লোকজন তাকে দ্রুত সাহায্য করার চেষ্টা করলেও তিনি আর সাড়া দেননি। পরে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া যায়।
গ্রামীণ সমাজে জমি-জমা নিয়ে বিরোধ নতুন কোনো বিষয় নয়। অনেক ক্ষেত্রে পারিবারিক সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও এসব বিরোধ মারাত্মক সংঘাতে রূপ নেয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির কার্যকর উদ্যোগ এবং পারিবারিক আলোচনার মাধ্যমে অনেক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব। তবে কোনো বিরোধই সহিংসতার মাধ্যমে সমাধান হতে পারে না।
ঘটনার খবর পেয়ে শিবচর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মাদারীপুর মর্গে পাঠানো হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানা যাবে।
শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামাল হোসেন জানিয়েছেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে এবং আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা আশা করছেন, দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনা হবে এবং এ ধরনের পারিবারিক বিরোধ যাতে আর প্রাণহানির কারণ না হয়, সে বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করা হবে।